ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গণমাধ্যমের অফিসে হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত

রাজধানীতে দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার–এর অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা এবং নিউ এজ–এর সম্পাদক নুরুল কবীরকে হেনস্তার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (ডুজা)।

এসব ঘটনাকে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত বলে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি।

ডুজার মতে, গণমাধ্যমের অফিসে হামলা ও একজন প্রবীণ সম্পাদককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি দেশের স্বাধীন সাংবাদিকতা, জনগণের জানার অধিকার এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর সুস্পষ্ট আঘাত। সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে এ ধরনের হামলা চালানো প্রমাণ করে, হামলাকারীরা গণতন্ত্র, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার শত্রু।

ডুজা আরও জানায়, সংবাদপত্রের অফিস কোনোভাবেই হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে না। সাংবাদিক ও সম্পাদকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। ভিন্নমত দমন, সমালোচনামূলক সাংবাদিকতা বন্ধ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা পুরো সমাজের জন্য অশনিসংকেত।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) ডুজার সভাপতি মহিউদ্দিন মুজাহিদ মাহি ও সাধারণ সম্পাদক মাহাদী হাসান এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের অফিসে হামলা এবং সম্পাদক নুরুল কবীরের ওপর আক্রমণ স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর নগ্ন হামলা। যারা কলমের শক্তিকে ভয় পায়, তারাই এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়। সাংবাদিকদের ভয় দেখিয়ে সত্যকে থামানো যাবে না।”

তারা আরও বলেন, “গণতন্ত্রের কথা বলে যদি কেউ সংবাদমাধ্যমে আগুন দেয়, অফিস ভাঙচুর করে বা সম্পাদকদের ওপর হাত তোলে, তবে তারা গণতন্ত্রের ন্যূনতম চেতনারও ধারক নয়। সাংবাদিক সমাজ কখনোই ভয় পেয়ে নীরব হবে না।”

ডুজা অবিলম্বে প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার-এর অফিসে হামলা এবং নিউ এজ সম্পাদক নুরুল কবীরের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়। একই সঙ্গে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়—সাংবাদিক, সম্পাদক ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।

বিবৃতিতে বলা হয়, সহিংসতা নয়—স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সত্যের প্রতি শ্রদ্ধাই হোক গণতন্ত্রের ভিত্তি।

সংবাদটি শেয়ার করুন