আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ও ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কণ্ঠস্বর ধরে রেখে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করা জুলাই বিপ্লবী শরীফ ওসমান হাদির রক্তের শপথ নিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তার মৃত্যুর খবরে ‘আমরা প্রত্যেকে এখন হাদি’ প্রত্যয়ে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। বৃহস্পতিবার রাতে হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাত ১০টা থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা।
দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘গোলামি না আজাদি, আজাদি আজাদি’, ‘আমরা সবাই হাদি হবো, গুলির মুখে কথা ক’বো’, ‘ইনকিলাব ইনকিলাব জিন্দাবাদ’—এমন স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। প্রতিটি হল থেকে আলাদা আলাদা মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা রাজু ভাস্কর্য এলাকায় জড়ো হন এবং সেখানে সমাবেশ করেন।
মিছিল ও সমাবেশে শিক্ষার্থীরা হাদির আত্মত্যাগকে জুলাই আন্দোলনের ধারাবাহিক সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী রিয়াদুল ইসলাম বলেন, যুগে যুগে আবরার ফাহাদ ও ওসমান হাদিরা ফিরে আসবে। ওসমান হাদিদের হত্যা করে নিঃশেষ করা যায় না। শহীদ ওসমান হাদি যে দাবানল সারা দেশে ছড়িয়ে দিয়েছেন, তা একদিন আগ্নেয়গিরি হয়ে ফিরে আসবে। তিনি আরও বলেন, আজ আমাদের হাদি নেই, কিন্তু এখন থেকে আমরা সবাই হাদি—প্রত্যেকে হাদির প্রতিনিধিত্ব করব।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, শহীদ হাদির রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে তারা ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও অভ্যন্তরীণ ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আজীবন সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন। শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা যতদিন বেঁচে থাকব, প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম এই লড়াই চলবে। ভারতের আগ্রাসন ও আধিপত্যবাদকে আমরা কখনোই অগ্রসর হতে দেব না।
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, যারা হত্যার পরও সুশীলতার কথা বলে এবং যারা ভারতের পক্ষে অবস্থান নেয়, তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে। সত্যকে হাতে রেখে রাজপথেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা হাদির রক্তের শপথ নিয়ে বলেন, শহীদ ওসমান হাদির রক্তের শপথ—আজ থেকে আমরা প্রত্যেকে ওসমান হাদি। আওয়ামী ফ্যাসিবাদ ও ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে রাজপথে তাদের কণ্ঠস্বর সমুন্নত থাকবে। শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, এই দেশ দিল্লি বা অন্য কোনো কেন্দ্রের নির্দেশে নয়, ঢাকার জনগণের ইচ্ছায় চলবে। এই দেশে কোনো বিদেশি আধিপত্য বা দাসত্ব মেনে নেওয়া হবে না।




