ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাদির মৃত্যুর পুরো দায় সরকারের : মির্জা ফখরুল

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের যোদ্ধা এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর ঘটনায় সারাদেশ উত্তাল হয়ে উঠেছেদেশের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে

ঘটনায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) ভোরে ফেসবুকে ভেরিফায়েড পেজে তিনি লিখেছেন, বাংলাদেশ স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ। এ দেশের প্রতিটি নাগরিকের জানমালের দায়িত্ব বর্তমান সরকারের। শহীদ হাদির মৃত্যুতে শোকাহত জাতি যখন তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছে, তখন বিভিন্ন সংবাদপত্র, বরেণ্য সাংবাদিক এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর হীন হামলা চালানো হয়েছে।

তিনি আরও লিখেছেন, দেশের সংকটময় মুহূর্তকে কাজে লাগানোর জন্য যারা অপেক্ষা করে, তারা দেশের শত্রু। এই দুঃখভারাক্রান্ত মুহূর্তকে তারা ধ্বংসাত্মক কাজে রূপান্তর করেছে। ফখরুল সরকারকে এই ঘটনার পুরো দায়িত্ব নিতে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন মব সন্ত্রাস পুরো জাতিকে বিভক্ত করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহীদ হাদি নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন এবং জনগণের দরজায় গিয়েছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। এছাড়া হাদির হত্যাকারী এবং সকল মব সন্ত্রাসের বিচার করতে হবে।

ফখরুল বলেন, স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পরে সরকারকে প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব হলো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠন করা। তিনি সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল হয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান এবং অনতিবিলম্বে সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলছেন।

উল্লেখ্য, জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক শরিফ ওসমান হাদি গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরে গণসংযোগকালে চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় আততায়ীর গুলিতে গুরুতর আহত হন। মাথায় লেগে যাওয়া গুলির পরে তাকে ঢাকায় এবং পরে সিঙ্গাপুরে দীর্ঘ চিকিৎসা দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর পর ঢাকা এবং দেশের অন্যান্য এলাকায় উত্তাল ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন