ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চরমোনাই পরিবারের তিন ভাই এবার নির্বাচনের মাঠে

চরমোনাই মাদরাসার গণ্ডি পেরিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জন্য নতুন নয়তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে চরমোনাই পরিবারের ভূমিকা এবার নতুন করে আলোচনায় এসেছেদলের আমির পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম নিজে নির্বাচনে না থাকলেও, তাঁর তিন ভাই চারটি আসনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামছেনএতে দলীয় রাজনীতিতে পারিবারিক প্রভাবের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনীতিতে চরমোনাই পরিবারের অবস্থান দীর্ঘদিনের। সাংগঠনিক শক্তি, মাঠপর্যায়ের তৎপরতা এবং নির্দিষ্ট ভোটব্যাংক থাকলেও জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলে দলটির সাফল্য এখনো সীমিত। গত দুই দশকের নির্বাচনী পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, লড়াই থাকলেও জয়ের খাতায় চরমোনাই পরিবারের নাম খুব একটা ওঠেনি।

চরমোনাই পীর হিসেবে পরিচিত সৈয়দ রেজাউল করিম ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত মুখ। তিনি বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি ও বাংলাদেশ কুরআন শিক্ষা বোর্ডের সভাপতি এবং বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের সহ-সভাপতি। স্থানীয় সরকার রাজনীতিতেও তাঁর পরিবারের ভূমিকা রয়েছে। তিনি নিজে ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে চরমোনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। পরে তাঁর ভাই সৈয়দ ইছহাক মুহাম্মদ আবুল খায়েরও টানা দুই মেয়াদে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বর্তমানে আরেক ভাই সৈয়দ মুহাম্মদ জিয়াউল করিম ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন।

এর আগে চরমোনাই পীরের চার ভাইসৈয়দ ইছহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের, সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম, সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী ও সৈয়দ মুহাম্মদ নুরুল করিমবিভিন্ন সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও কেউই জয়ী হতে পারেননি।

চরমোনাই পীরের রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়েছিল তাঁর উস্তাদ মাওলানা মুহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জীর মাধ্যমে। তিনি একসময় বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সহ-সভাপতি ছিলেন। হাফেজ্জীর মৃত্যুর পর ১৯৮৭ সালে তিনি ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নামে আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৯১ সাল থেকে দলটি সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতিতে সক্রিয় হয় এবং ২০০৮ সালে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন পেয়ে হাতপাখা প্রতীক লাভ করে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবে অংশ নিয়ে ভোটের হিসাবে দলটি চতুর্থ অবস্থানে ছিল।

আসন্ন নির্বাচনে বরিশাল ও ঢাকার চারটি আসনে চরমোনাই পরিবারের উপস্থিতি চোখে পড়ছে। বরিশাল-৪ আসনে প্রার্থী হয়েছেন সৈয়দ ইছহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের। বরিশাল-৫ আসনে মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম এবং বরিশাল-৬ আসনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ঢাকা-৪ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী

তবে অতীতের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বরিশাল-৫ আসনে বারবার লড়লেও ইসলামী আন্দোলন জয় পায়নি। ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে ফয়জুল করিম তৃতীয় অবস্থানে ছিলেন বা জামানত হারিয়েছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও একই চিত্র দেখা গেছে। ২০২৩ সালের বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হয়ে তিনি পরাজিত হন এবং ফল বাতিল চেয়ে করা মামলাও আদালতে খারিজ হয়।

বরিশাল-৪ ও ঢাকা-৪ আসনেও দলের প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য ভোট পেলেও জয়ী হওয়ার মতো অবস্থানে পৌঁছাতে পারেননি। এসব তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ভোটব্যাংক একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যেই ঘোরাফেরা করছে। অধিকাংশ আসনে দলটির ভোটের হার আট থেকে ১২ শতাংশের মধ্যে থাকছে, যা এখনো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্ধারক শক্তি হয়ে ওঠেনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন