রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মা ও মেয়েকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার মূল আসামি গৃহকর্মী আয়েশা আক্তার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পর তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
এইদিন রিমান্ড শেষে আয়েশাকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক সহিদুল ওসমান মাসুম। যেহেতু আসামি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন, তাই তা রেকর্ড করার আবেদন করা হয়। আদালত পরে জবানবন্দি রেকর্ড করে এবং তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন পুলিশের উপপরিদর্শক মিজানুর রহমান।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আয়েশা খণ্ডকালীন গৃহকর্মী হিসেবে বাদী আজিজুল ইসলামের বাসায় যোগ দেন। আজিজুল ইসলাম ৮ ডিসেম্বর সকালে নিজ কর্মস্থল উত্তরায় যান। স্ত্রী মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন, কিন্তু ব্যর্থ হন। পরে আনুমানিক বেলা ১১টার দিকে বাসায় ফেরার পর দেখা যায়—স্ত্রী লায়লা ফিরোজ এবং মেয়ের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখমের চিহ্ন। মেয়েকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, বাসার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, আয়েশা সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে কাজের জন্য বাসায় প্রবেশ করেন এবং ৯টা ৩৫ মিনিটে একটি মোবাইল, ল্যাপটপ, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে বের হন। ওই সময়ের মধ্যে তিনি স্ত্রী ও মেয়েকে ছুরি বা অন্য ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেছেন।
এর আগে, ১০ ডিসেম্বর আয়েশা ও তার স্বামী রাব্বি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ফুফুশাশুড়ির বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার হন। পরের দিন আয়েশার ৬ দিনের রিমান্ড এবং রাব্বির ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। ১৪ ডিসেম্বর রাব্বি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। নিহত লায়লার স্বামী আ জ ম আজিজুল ইসলাম, ৮ ডিসেম্বর মোহাম্মদপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেছিলেন।




