ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নোবেল শান্তি পুরস্কারে গাজার চিকিৎসকরা

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদানের জন্য জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি ফ্রান্সেসকা আলবানিজ এবং গাজা ভিত্তিক চিকিৎসকরা ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) এই তথ্য জানান ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য মাতিয়াজ নেমেক।

নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরই ঘোষণা দেওয়া হয়।

নেমেক জানান, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্যসহ ৩৩টি দেশের প্রায় ৩০০ জন যোগ্য মনোনয়নদাতা এ প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই মনোনয়ন “সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতেও মৌলিক মানবিক মূল্যবোধ রক্ষায় সাহস, প্রচেষ্টা ও দৃঢ়তার প্রতি সম্মান” এবং এটি “রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে শান্তির পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান” হিসেবে বিবেচিত।

নেমেক ফ্রান্সেসকা আলবানিজের আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার রক্ষার ভূমিকাকে বিশেষভাবে প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর রাজনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও তিনি দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

তিনি আমাদের সামনে একটি আয়না ধরেন এবং আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের প্রতি অটল থাকেন।”

মনোনয়নের মধ্যে গাজার চিকিৎসকরাও রয়েছেন, যার মধ্যে ডা. হুসাম আবু সাফিয়া ও ডা. সারা আল-সাক্কা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। নেমেক বলেন, “স্বাস্থ্য অবকাঠামো ধ্বংসপ্রায় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সরবরাহের তীব্র সংকট থাকা সত্ত্বেও তারা প্রতিদিন মানবতা, সংহতি ও শান্তির মূল্যবোধ বাস্তবায়ন করছেন। এ স্বীকৃতি তাদের নিঃসন্দেহে যোগ্যতা প্রদর্শন করে।”

তিনি আরও বলেন, “এই বৈশ্বিক মনোনয়ন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও বিশ্ব নেতাদের প্রতি বার্তা পাঠায়সব পরিস্থিতিতেই আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার ও মানব মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে।” উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় চলমান ইসরাইলি হামলায় ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজারেরও বেশি মানুষ। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও দখলদার বাহিনী সহিংসতা অব্যাহত রেখেছে এবং অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর একাধিকবার তা লঙ্ঘন করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন