বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় নির্বাচন নিয়ে গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেছেন, দেশজুড়ে মবতন্ত্রের উত্থান প্রশাসনিক কাঠামোকে ভঙ্গুর করে তুলছে। তবুও নির্বাচন প্রক্রিয়ার বাইরে না থেকে ভোটে অংশ নেওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন তিনি।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন শামীম হায়দার পাটোয়ারী। এ সময় তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা কঠিন হলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচনও নির্বাচন না হওয়ার চেয়ে ভালো।
তিনি বলেন, বিজয়ের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল, যা বাঙালি জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে স্বাধীনতার এত বছর পরও বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমতার সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শামীম হায়দার পাটোয়ারী অভিযোগ করেন, জাতীয় ঐক্যের পরিবর্তে দেশে বিভাজন বাড়ানো হয়েছে এবং মবতন্ত্র ও সহিংস রাজনীতির উত্থান ঘটেছে। তিনি বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর ওসমান হাদিকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে, যা রাষ্ট্রব্যবস্থার দুর্বলতাকেই স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেন, এই ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে সরকার আদৌ একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নিরাপদ নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুত কি না। তাঁর ভাষায়, সরকার ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে, আর অপশক্তি ও মব শক্তিশালী হয়ে উঠছে।
তিনি আরও বলেন, দেশকে এই অবস্থা থেকে বের করে আনতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য জরুরি। সকল পক্ষকে নিয়ে একটি সমঝোতার নির্বাচন এবং রাজনৈতিক সমাধানের মধ্য দিয়েই রাষ্ট্র গঠনের পথ সুগম হতে পারে।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক আদর্শ গড়ে উঠেছে উল্লেখ করে শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, যারা একাত্তরকে বিকৃত করে বা অস্বীকার করে, তারা প্রকৃত অর্থে বাংলাদেশকে ভালোবাসে না। চব্বিশের আন্দোলনের আত্মত্যাগকে সম্মান জানালেও তিনি বলেন, একাত্তর ও চব্বিশ—দুটোই তাদের নিজ নিজ জায়গায় মহিমান্বিত, কোনোটি দিয়ে অন্যটিকে খাটো করার সুযোগ নেই।




