বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভাকে কেন্দ্র করে ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে জারুলতলায় মঙ্গলবার দুপুরে আয়োজিত বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে ওঠেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) ইব্রাহিম হোসেন রনি। অভিযোগ রয়েছে, বক্তব্য চলাকালে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন ও সংগঠনটির কয়েকজন নেতা-কর্মী তাঁর দিকে তেড়ে যান। এতে সভাস্থলে মুহূর্তের মধ্যেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনা প্রসঙ্গে চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, ‘যাদের ক্যাম্পাসে বহিরাগত আনার সংস্কৃতি আছে, তারা এমন আচরণ করবেই। আমরা চাই, সব ছাত্রসংগঠনের নেতারা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করুক।’ তবে এ বিষয়ে জানতে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের বিষয়ে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়। সহ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানের পদত্যাগের দাবিতে সোমবার প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। এতে উপাচার্য, সহ-উপাচার্যসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন।
একই সময়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে শাখা ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরাও অবস্থান নেন। ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে পাল্টাপাল্টি স্লোগানে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রায় আট ঘণ্টা পর রাত সাড়ে আটটার দিকে তালা খুলে দেওয়া হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়।
উল্লেখ্য, ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের আলোচনা সভায় সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, পাকিস্তানি বাহিনী পরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে এমন ধারণা তিনি ‘অবান্তর’ মনে করেন। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই ক্যাম্পাসজুড়ে প্রতিবাদ, পাল্টা কর্মসূচি ও রাজনৈতিক উত্তেজনার সূত্রপাত হয়, যার প্রভাব এখনো পুরোপুরি কাটেনি।




