ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বন্ডি বিচে রক্তাক্ত হানুকা উৎসব, আইএস অনুপ্রাণিত হামলার আশঙ্কা

সিডনির জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা বন্ডি বিচে ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের হানুকা উৎসব রোববার রক্তাক্ত হয়ে ওঠে ভয়াবহ বন্দুক হামলায়। অস্ট্রেলীয় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই নৃশংস ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৬ জন নিহত হয়েছেন, যা দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ গণগুলিবর্ষণের একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে একজন সন্দেহভাজন হামলাকারীও রয়েছে। ৫০ বছর বয়সী সাজিদ আকরামকে ঘটনাস্থলেই গুলি করে হত্যা করা হয়। তার ২৪ বছর বয়সী ছেলে নাভিদ আকরাম গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, হামলায় বাবা ও ছেলে একসঙ্গে অংশ নিয়েছিল।

ঘটনার তদন্তে উঠে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক যোগসূত্র। অস্ট্রেলীয় পুলিশ জানিয়েছে, হামলার আগে বাবা–ছেলে গত মাসে ফিলিপাইন সফর করেছিলেন। ফিলিপাইনের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, তারা ১ নভেম্বর ম্যানিলায় প্রবেশ করে পরে দাভাও যান এবং ২৮ নভেম্বর অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে আসেন। সফরের প্রকৃত উদ্দেশ্য এখনও তদন্তাধীন।

কর্তৃপক্ষ জানায়, সাজিদ আকরাম ভারতীয় পাসপোর্টে এবং তার ছেলে অস্ট্রেলীয় পাসপোর্টে ওই সফর সম্পন্ন করেন। ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে ইসলামিক স্টেট–সংশ্লিষ্ট জঙ্গি নেটওয়ার্কের উপস্থিতি থাকার বিষয়টি তদন্তকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

অস্ট্রেলীয় ফেডারেল পুলিশের কমিশনার ক্রিসি ব্যারেট এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রাথমিক আলামত থেকে ধারণা করা হচ্ছে যে হামলাটি ইসলামিক স্টেট দ্বারা অনুপ্রাণিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এগুলো কোনো ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করে না, বরং সন্ত্রাসী আদর্শে প্রভাবিত ব্যক্তিদের নৃশংস কাজ।”

পুলিশ আরও জানায়, সন্দেহভাজন তরুণের নামে নিবন্ধিত একটি গাড়ি থেকে তাৎক্ষণিক বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম (আইইডি) এবং আইএস সংশ্লিষ্ট দুটি হাতে তৈরি পতাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এসব আলামত হামলার সন্ত্রাসী চরিত্রকে আরও স্পষ্ট করছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, প্রায় ১০ মিনিট ধরে হামলাকারীরা উৎসবে অংশ নেওয়া শত শত মানুষের দিকে নির্বিচারে গুলি চালায়। মুহূর্তের মধ্যেই উৎসবস্থল আতঙ্কে পরিণত হয়, মানুষ দিগ্বিদিক ছুটে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পালাতে থাকে। শেষ পর্যন্ত পুলিশের পাল্টা অভিযানে হামলা থামানো সম্ভব হয়।

এই ঘটনায় অস্ট্রেলিয়াজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং ধর্মীয় ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় বাড়ানো হয়েছে পুলিশি নজরদারি। হামলার পেছনে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংযোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত এখনো চলমান।

সংবাদটি শেয়ার করুন