আইপিএলের পরের আসরের জন্য মিনি-নিলাম বসছে মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর। নিলামের আগ পর্যন্ত সব আভাসই বলছিল এবার আইপিএলে বাংলাদেশের একাধিক ক্রিকেটারের দল পাওয়ার সম্ভাবনা বেশ শক্ত। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে সেই চিত্রে পড়েছে বড় ধাক্কা। আন্তর্জাতিক সূচির জটিলতায় বাংলাদেশের সাত ক্রিকেটারের পুরো মৌসুম আইপিএলে খেলা অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে, যা ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকেও ভাবনায় ফেলেছে।
ক্রিকবাজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা আইপিএলের সম্পূর্ণ আসরের জন্য এনওসি নাও পেতে পারেন। আর আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর কাছে খেলোয়াড় কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নই হলো তিনি কি পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দলের সঙ্গে থাকতে পারবেন?
নিউজিল্যান্ড সিরিজে জটিলতা
এই অনিশ্চয়তার মূল কারণ এপ্রিলে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের নির্ধারিত সীমিত ওভারের সিরিজ। সেখানে টাইগারদের খেলতে হবে মোট ৬টি ম্যাচ। নিলামে থাকা বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের প্রায় সবাই জাতীয় দলের নিয়মিত সদস্য। তাদের ছাড়া নিউজিল্যান্ড সিরিজ খেলা যেমন কঠিন, তেমনি সিরিজ চলাকালে পূর্ণ মৌসুমের এনওসি না পেলে আইপিএলে দল পাওয়ার সম্ভাবনাও অনেকটাই কমে যাবে।
আইপিএল কর্তৃপক্ষ সাধারণত নিলামের আগেই বিভিন্ন বোর্ডের সঙ্গে এনওসি বিষয়ক সমন্বয় সেরে রাখে। ফলে নিলাম শুরুর আগেই ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর জানার কথা কে কে পুরো মৌসুমে উপলব্ধ থাকবেন।
মুস্তাফিজকে ঘিরে আগ্রহ, তবে শঙ্কাও
বাংলাদেশিদের মধ্যে এবারের নিলামে সর্বোচ্চ ভিত্তিমূল্য ২ কোটি রুপি নির্ধারিত হয়েছে তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের। আইপিএলে তিনি পরিচিত মুখ এবং আগের আসরগুলোতে বল হাতে রেখে গেছেন দারুণ প্রভাব। বর্তমানে আইএলটি-টোয়েন্টিতে দুবাই ক্যাপিটালসের হয়ে দুর্দান্ত ফর্মে থাকায়, এবারের নিলামে তাকে ঘিরে প্রতিযোগিতা হওয়ার সম্ভাবনাও প্রবল।
তবে এনওসি নিয়ে অনিশ্চয়তা মুস্তাফিজকে দলে নেওয়ার ক্ষেত্রে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর মধ্যে নতুন করে দুশ্চিন্তা তৈরি করেছে।
নিলামে থাকা অন্য বাংলাদেশিরা
মুস্তাফিজ ছাড়াও এবারের মিনি-নিলামে বাংলাদেশের আরও ছয় ক্রিকেটারের নাম রয়েছে রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, তানজিম হাসান সাকিব, নাহিদ রানা, রাকিবুল হাসান ও শরিফুল ইসলাম।
এই তালিকায় একমাত্র রাকিবুল হাসান জাতীয় দলে না খেললেও বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে তার অভিজ্ঞতা উল্লেখযোগ্য। ২০২০ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। বোলার হিসেবে তালিকাভুক্ত হলেও রাকিবুল মূলত একজন অলরাউন্ডার।
বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের ভিত্তিমূল্য-
মুস্তাফিজুর রহমান: ২ কোটি রুপি
রাকিবুল হাসান: ৩০ লাখ রুপি
রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, তানজিম হাসান সাকিব, নাহিদ রানা ও শরিফুল ইসলাম: প্রত্যেকে ৭৫ লাখ রুপি
সব মিলিয়ে, এনওসি এখন বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের আইপিএল ভাগ্য নির্ধারণের সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি, যা নিলামের গতি ও ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর কৌশল দুটোতেই বড় প্রভাব ফেলতে পারে।




