ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাশিয়ার বিপুল অর্থ ফ্রিজ করলো ইউরোপীয় ইউনিয়ন

ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার ওপর চাপ আরও বাড়াতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বড় ধরনের আর্থিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন ব্যাংকে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গচ্ছিত প্রায় ২ হাজার ৪৬০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ ও সম্পদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখার পথে হাঁটছে জোটটি। ব্রাসেলসে ইইউ সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সাম্প্রতিক বৈঠকে এ বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

ইইউ কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফ্রিজ করা এই অর্থ যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের পুনর্গঠন, দেশটির নিরাপত্তা জোরদার এবং সম্ভাব্য রুশ হামলা প্রতিরোধে ব্যয় করা হবে। পাশাপাশি ২০২৬ ও ২০২৭ সালে ইউক্রেনের জাতীয় বাজেট ঘাটতি সামাল দিতেও এ তহবিল থেকে সহায়তা দেওয়া হবে।

ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী ইউলিয়া এসভিরিদেঙ্কো এই সিদ্ধান্তকে ‘ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার একটি দৃষ্টান্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ ক্ষতিপূরণভিত্তিক ঋণ ব্যবস্থার ভিত মজবুত করবে এবং রাশিয়াকে ইউক্রেনে চালানো ধ্বংসযজ্ঞের বাস্তবতা উপলব্ধি করাবে।

ইইউর পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ এবং ২০২৭ সালে ইউক্রেনকে বাজেট সহায়তা হিসেবে এই ফ্রিজ করা অর্থ থেকেই মোট ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলার ঋণ দেওয়া হবে। তবে এই সহায়তার সঙ্গে একটি শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। রাশিয়া যদি ভবিষ্যতে যুদ্ধক্ষতিপূরণ দিতে সম্মত হয়, তাহলে ইউক্রেন ধাপে ধাপে ওই অর্থ রাশিয়াকে ফেরত দেবে। অর্থাৎ ক্ষতিপূরণ আদায়ের প্রক্রিয়ার সঙ্গে এই ঋণ ব্যবস্থাকে যুক্ত রাখা হয়েছে।

ইইউ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ১৮ ডিসেম্বরের বৈঠকে সিদ্ধান্তটি দাপ্তরিকভাবে চূড়ান্ত করা হবে। সে বৈঠকেই বাস্তবায়নসংক্রান্ত অবশিষ্ট আইনি ও প্রক্রিয়াগত জটিলতা নিষ্পত্তির আশা করা হচ্ছে।

২০২২ সালে ইউক্রেনে রুশ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই রাশিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইইউ। তখন রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইউরোপে থাকা অর্থ ও সম্পদ জব্দ করা হলেও প্রতি ছয় মাস অন্তর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ নবায়ন করতে হতো। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে আর নিয়মিত মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজন পড়বে না।

সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জ নিয়ে ইইউর বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও ডেনমার্কের অর্থমন্ত্রী স্টেফানি লোস জানান, ১৮ ডিসেম্বরের বৈঠকে সেগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী।

রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। তাদের অভিযোগ রাশিয়ার অর্থ ও সম্পদ ‘চুরি করার নতুন কৌশল’ বের করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

সংবাদটি শেয়ার করুন