ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ওড়িশা-আসামে নতুন করে ভারতীয় হলেন ৩৬ বাংলাদেশি

ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এবার মোট ৩৬ জন বাংলাদেশি আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় নাগরিকত্ব পেয়েছেন। এদের মধ্যে ওড়িশায় ৩৫ জন এবং প্রথমবারের মতো আসামে একজন বাংলাদেশি নাগরিকত্ব লাভ করেছেন।

ওড়িশা রাজ্য সরকারের আয়োজনে নতুন নাগরিকদের হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি বলেন, সিএএ নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের জন্য নিরাপত্তা ও আশ্রয়ের প্রতীক হিসেবে কাজ করছে।

দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০১৯ সালে গৃহীত সিএএ আইনের আওতায় বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া ৩৫ জন অভিবাসীকে গত বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) নাগরিকত্ব দেওয়া হয়। এর ফলে রাজ্যটিতে এখন পর্যন্ত সিএএ এর মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়া মানুষের সংখ্যা দাঁড়াল ৫১ জনে। পাশাপাশি আরও প্রায় ১ হাজার ১০০টি আবেদন যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে।

ওড়িশার জনশুমারি দপ্তর জানিয়েছে, এবার নাগরিকত্ব পাওয়া ৩৫ জনই হিন্দু। ২০২৪ সালের ১১ মার্চ থেকে কার্যকর হওয়া বিধি অনুযায়ী বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের অমুসলিম যারা ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ভারতে প্রবেশ করেছেন, তারা সিএএ–এর আওতায় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন।

এদিকে, আসামে প্রথমবারের মতো একজন বাংলাদেশি নারী সিএএ-এর অধীনে ভারতীয় নাগরিকত্ব পেয়েছেন। শ্রীভূমি জেলার বাসিন্দা ৪০ বছর বয়সী ওই নারী ২০০৭ সালে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসেন।

শিলচরের সাবেক ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল সদস্য ও আইনজীবী ধর্মানন্দ দেব জানান, চিকিৎসার জন্য শিলচর মেডিকেল কলেজে আসার সময় তার সঙ্গে স্থানীয় এক যুবকের পরিচয় হয় এবং পরে বিয়ে হয়। এরপর তিনি ভারতের নাগরিকের স্ত্রী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সিএএ অনুযায়ী নাগরিকত্ব পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। বিধি কার্যকর হওয়ার পর তিনি আবেদন করলে তা অনুমোদিত হয়।

ধর্মানন্দ দেব বলেন, নাগরিকত্ব আইন ১৯৫৫-এর ৫(১)(সি) ও ৬বি ধারার অধীনে নিবন্ধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে। এই ধারায় বলা হয়েছে, কোনো বিদেশি ব্যক্তি ভারতীয় নাগরিককে বিয়ে করলে এবং টানা সাত বছর ভারতে বসবাস করলে তিনি নিবন্ধনের মাধ্যমে নাগরিকত্বের যোগ্য হন।

সংবাদটি শেয়ার করুন