ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মৃত্যুর দ্বার থেকে ফিরে শক্তি ও সংগ্রামের প্রতীক মালালা

মালালার পরিবার প্রথমে অস্ত্রোপচারে রাজি হননিতারা জুনায়েদ খানের তুলনায় কম বয়সঅভিজ্ঞতা দেখে সন্দেহ করেছিলেন এবং চাইছিলেন মালালাকে বেসামরিক চিকিৎসক দেখানো বা দুবাইয়ে স্থানান্তর করার চেষ্টা করা হোককিন্তু জুনায়েদ খান পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেন, অস্ত্রোপচার না করলে মালালার মৃত্যু হতে পারে, অথবা সে কথা বলার ক্ষমতা হারাতে পারে, কিংবা ডান দিকের হাত-পা পক্ষাঘাতগ্রস্ত হতে পারে

মধ্যরাতের পর অস্ত্রোপচার শুরু হয়। এ সময় খুলির একটি অংশ সরানো হয়, মস্তিষ্কে জমা রক্ত পরিষ্কার করা হয় এবং মালালাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। এতে তার জীবন প্রথমে সুরক্ষিত থাকে। পরবর্তী দিনে সংক্রমণ ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ব্যর্থতার কারণে মালালাকে মেডিক্যালি ইন্ডিউসড কোমায় রাখা হয়, তার বেঁচে থাকা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। পাকিস্তানের তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল আশফাক পারভেজ কায়ানি ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নিয়ে মালালাকে যুক্তরাজ্যের কুইন এলিজাবেথ হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করেন। সেখানে শুরু হয় তার দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের অধ্যায়।

চিকিৎসকরা বলেছেন, মালালার বেঁচে যাওয়ার পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। গুলি সরাসরি মস্তিষ্কে লেগে নি, দ্রুত চিকিৎসা ও সময়মতো অস্ত্রোপচার এবং সংক্রমণ প্রতিরোধ ও আধুনিক মেডিক্যাল ব্যবস্থার কার্যকর ব্যবহার তার জীবন বাঁচাতে বড় ভূমিকা রেখেছে। বার্মিংহামে বিশেষ পরীক্ষায় দেখা যায়, মালালার কোনো বড় নিউরোলজিক্যাল ক্ষতি হয়নি।

চিকিৎসার ধাপে ধাপে মুখের পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচার, কানের পর্দার ককলিয়ার ইমপ্ল্যান্ট এবং খোলা মাথার খুলির স্থলে কাস্টম-মেড টাইটানিয়াম প্লেট স্থাপন করা হয়। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মালালা হাঁটতে, লিখতে, পড়তে ও হাসতেও সক্ষম হন। প্রথমে ট্র্যাকিওটমির কারণে কথা বলতে না পারলেও কাগজে লিখে যোগাযোগ করতেন। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে পরিবারের সঙ্গে অস্থায়ী বাসায় পুনর্বাসন শুরু হয়।

শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি মালালার অদম্য মানসিক শক্তি ও বাঁচার প্রবল ইচ্ছাশক্তি তার দ্রুত সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফিজিওথেরাপিকাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন। আঘাত প্রাণঘাতী হলেও সময়মতো চিকিৎসা এবং মালালার শারীরিক প্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে তিনি মৃত্যুর দ্বার থেকে ফিরে আসতে পেরেছেন।

এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও মালালা থেমে যাননি। বরং তিনি আরও শক্তিশালী হয়ে বিশ্বজুড়ে নারী শিক্ষার অধিকার ও সচেতনতার জন্য আন্দোলন শুরু করেন। পরবর্তীতে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান এবং বিশ্বের অন্যতম কনিষ্ঠ নোবেলজয়ী হিসেবে পরিচিত হন। মালালা নিজেও বলেছেন, তালেবানের হাতে গুলিবিদ্ধ হওয়া ঘটনা তাকে আরও দৃঢ় ও শক্তিশালী করেছে। তার অভিজ্ঞতা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে নয়, মানব জীবনের অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবেও বিবেচিত

সংবাদটি শেয়ার করুন