দেশজুড়ে লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ মারণাস্ত্র ও গোলাবারুদের বড় অংশ এখনো উদ্ধার না হওয়ায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন নিয়ে গুরুতর নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতির মধ্যেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংক্রান্ত পরবর্তী সব কার্যক্রম স্থগিতের দাবি জানিয়ে সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) জনস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান রেজিস্ট্রি ডাক ও ই-মেইলের মাধ্যমে এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। নোটিশে বিবাদী করা হয়েছে- মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), র্যাবের মহাপরিচালক।
নোটিশ পাওয়ার ৭ দিনের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট আবেদন করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান জানান, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণবিপ্লবের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটলেও দেশ বর্তমানে এক গভীর নিরাপত্তা সংকটে রয়েছে। ওই সময় দেশের বিভিন্ন থানা ও নিরাপত্তা স্থাপনা থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট হয়, যার বড় অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি।
এই অবৈধ অস্ত্র অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের হাতে থাকায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার ও প্রার্থীদের জীবনের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে। ইতোমধ্যে নির্বাচনি সহিংসতার ইঙ্গিতও দেখা যাচ্ছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
এর প্রমাণ হিসেবে নোটিশে ১২ ডিসেম্বর ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়, যা দেখায় যে অস্ত্র উদ্ধার ছাড়া নির্বাচন আয়োজন সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকের জীবনের অধিকার লঙ্ঘন করতে পারে।
লিগ্যাল নোটিশে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, জুলাই সনদের ওপর গণভোট একটি জাতীয় ঐকমত্যের বিষয়, যেখানে সহিংস প্রতিযোগিতার সুযোগ নেই কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া এ অবস্থায় অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানির মধ্যে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনকে ‘আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
নোটিশে দাবি জানানো হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত দিনে জুলাই সনদের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হোক তবে সব লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত রাখতে হবে
এর আগে একই দাবিতে করা একটি রিট আবেদন খারিজ হয়। ৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ কংগ্রেসের পক্ষে দলের মহাসচিব আইনজীবী মো. ইয়ারুল ইসলাম আবেদনটি করেন। হাইকোর্টের বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও রাজিউদ্দিন আহমেদ সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ তা উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেন।
তবে নতুন লিগ্যাল নোটিশের মাধ্যমে বিষয়টি আবারও আইনি প্রক্রিয়ায় তোলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।




