ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস, নির্মম অধ্যায়ের স্মরণ

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে ১৪ ডিসেম্বর এমন একটি দিন, যা জাতিকে বেদনাহত ও স্তব্ধ করে দেয়। ১৯৭১ সালের এই দিনে বিজয়ের ঠিক আগমুহূর্তে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের স্থানীয় দোসররা পরিকল্পিতভাবে দেশের বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে— যা মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে নির্মম অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত।

নয় মাসের যুদ্ধ যখন শেষপ্রায়, তখন পরাজয় নিশ্চিত জেনে রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও শান্তি কমিটির সদস্যরা বাঙালিকে নেতৃত্বশূন্য করতে ঝাঁপিয়ে পড়ে বুদ্ধিজীবী হত্যার নৃশংস কর্মযজ্ঞে। মানবসভ্যতার ইতিহাসে নিকৃষ্টতম এই হত্যাযজ্ঞ গোটা জাতিকে স্তম্ভিত করে দিয়েছিল।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে পৃথক বাণী দিয়েছেন।

১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর রাতের আঁধারে কেবল ঢাকা শহর থেকেই প্রায় দেড়শাধিক শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, সংস্কৃতিসেবী ও সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় অজ্ঞাত স্থানে। সান্ধ্য আইনের মধ্যেই তাদের টেনে-হিঁচড়ে ঘর থেকে বের করে চোখ বেঁধে নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন ভোরে মিরপুর ও রায়েরবাজারের ডোবা-নালা, ইটভাটায় একে একে মিলতে থাকে নির্যাতনে বিদীর্ণ নিথর দেহ।

এ হত্যাযজ্ঞের আগে বন্দীদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছিল। ১৯৭২ সালের জাতীয় সংকলন, তৎকালীন পত্রিকা এবং আন্তর্জাতিক সাময়িকী নিউজ উইকের সাংবাদিক নিকোলাস টমালিনের অনুসন্ধানে উঠে আসে— শহীদ বুদ্ধিজীবীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১ হাজার ৭০ জন।

স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষায় উজ্জীবিত বাঙালি জাতির সংগ্রামে বুদ্ধিজীবীরা ছিলেন পথপ্রদর্শক। লেখনি, চিন্তা-মনন ও সাংস্কৃতিক সৃজনশীলতার মাধ্যমে তারা জাতিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির কাছে স্বাধীন বাংলাদেশ ছিল অসহনীয়— তাই বুদ্ধিজীবীদের নির্মূল করে দেশকে মেধাশূন্য করার নীলনকশা বাস্তবায়িত হয়।

যদিও ১৪ ডিসেম্বরকে মূল হত্যাযজ্ঞের দিন হিসেবে স্মরণ করা হয়, ইতিহাস বলছে— ১০ ডিসেম্বর থেকেই শুরু হয়েছিল এই ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ড। রাতের আঁধারে তালিকাভুক্ত দেশপ্রেমিকদের অপহরণ ও হত্যা চলতে থাকে বহু দিন।

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতিকে ধারণ করে ঢাকার মিরপুরে নির্মিত হয় প্রথম স্মৃতিসৌধ। পরবর্তী সময়ে রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে নতুন স্মৃতিসৌধ নির্মাণ শুরু হয় ১৯৯১ সালে, যার উদ্বোধন হয় ১৯৯৯ সালের ১৪ ডিসেম্বর।

প্রতি বছরই এই দিনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়, শোকে ঢেকে যায় গোটা দেশ। অনুষ্ঠিত হয় বিভিন্ন আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, গান, আবৃত্তি, প্রদর্শনীসহ নানা স্মরণ অনুষ্ঠান।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) সকাল ৭টা ৬ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টার নেতৃত্বে শহীদ পরিবার, যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা মিরপুর ও রায়েরবাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানান। এরপর স্মৃতিসৌধ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় সর্বসাধারণের জন্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন