স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান জানিয়েছেন, চলতি ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের এমবিবিএস-বিডিএস ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল আগামী ৭২ থেকে ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে দেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
অধ্যাপক বলেন, ‘সাধারণভাবে ৭২ থেকে ৯৬ ঘণ্টার মধ্যে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। আমরা এই সময়ের মধ্যেই থাকার চেষ্টা করব। এবার দুটি ভর্তি পরীক্ষা এক সঙ্গে হয়েছে। অন্যান্য সময় এমবিবিএস ও বিডিএস দুটি পরীক্ষা হতো। সেজন্য অপারেশনাল বিষয়ে কিছুটা পার্থক্য হতে পারে। এমবিবিএস শেষ করার পর বিডিএস হতে পারে। যদিও চয়েস দেওয়া হয়েছে এক সঙ্গে। আগে সাধারণ এমবিবিএস পরীক্ষা হয়ে যেত। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বিডিএস হতো। এবার এক পরীক্ষার মাধ্যমে দুটি ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। সে কারণে ভর্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সময় প্রলম্বিত হবে।
তিনি বলেন, ‘মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সাধারণত শুরু হয় সন্ধ্যার পর। কখনও খানিকটা দেরিও হয়। ঢাকার কেন্দ্রগুলোয় আসলে সাধারণত মূল্যায়ন শুরু হয়। সারাদেশের প্রায় লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর ফল আসে। সেটা সম্পন্ন করে আগামীকাল বা পরশু, তবে কোনোটাই নিশ্চিত করে বলা কঠিন। তবে মেশিনগুলো আগের তুলনায় গতিশীল। তারপরও দিনক্ষণ নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে যেটুকু তথ্য আছে, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। উপস্থিতির হার ঢাকার কেন্দ্রগুলোতে ভালো বলে খবর পেয়েছি। এখনও চূড়ান্ত তথ্য আসেনি। আমি যে দুটি কেন্দ্র (ভিকারুননিসা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) পরিদর্শন করেছি, সেখানে উপস্থিতির হার ভালো ছিল। সারাদেশে কোনো কেন্দ্রে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এ ব্যাপারে আমরা কোনো তথ্যও পাইনি। অন্যান্য সময় গুজব ছড়ানোর ঘটনা ঘটেছে। এবার এটাও হয়নি।’
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে আসন সংখ্যা ৫,৬৪৫টি; যার মধ্যে এমবিবিএস ৫,১০০টি এবং বিডিএস ৫৪৫টি। বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে আসন সংখ্যা ৭,৪০৬; যার মধ্যে এমবিবিএস ৬,০০১টি এবং বিডিএস ১,৪০৫টি। অর্থাৎ সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ মিলিয়ে মোট আসন ১৩ হাজার ৫১টি, যার মধ্যে এমবিবিএস কোর্সে ১১ হাজার ১০১টি এবং বিডিএস কোর্সে ১ হাজার ৯৫০টি আসন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সর্বমোট ১৩ হাজার ৫১টি আসনের জন্য এমবিবিএস এবং বিডিএস কোর্সে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য এ বছর আবেদন করেছেন মোট ১ লাখ ২২ হাজার ৬৩২ জন।




