বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতটা সহজ ভাবা হচ্ছে, বাস্তবে তা ততটা সহজ হবে না। মানুষের কাছে যেতে হবে, তাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে—তবেই বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ দেবে জনগণ। গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির আয়োজিত ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বিজয়ের মাস উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভাগীয় সাংগঠনিক ইউনিটের হাজারের বেশি নেতা-কর্মী অংশ নেন।
তারেক রহমান বলেন, অনেক আগে থেকেই তিনি সতর্ক করে আসছিলেন যে আসন্ন নির্বাচন কঠিন হবে। “আমাদের যদি এখনো সিরিয়াস না লাগছে, সামনে দেশের অস্তিত্ব ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে,” মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, “গণতন্ত্রই পারে দেশকে রক্ষা করতে, আর সেই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে পারে বিএনপির নেতা-কর্মী ও দেশের মানুষ।”
বিএনপির পরিকল্পনাগুলো জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, মানুষের দুয়ারে যেতে হবে, তাদের সঙ্গে আলাপ করতে হবে। “বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দলীয় সরকার হবে না। যারা ভোট দিয়েছে তাদের মতোই যারা ভোট দেয়নি তাদের জন্যও কাজ করতে হবে”—বলেন তিনি। তারেক রহমান আরও যোগ করেন, প্রার্থী বদল হতে পারে, কিন্তু দল ও আদর্শ অটুট থাকবে। বিএনপি স্বপ্ন দেখায় না, বরং স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেয়।
তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল মিথ্যা দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে; কিন্তু বিএনপির নেতা-কর্মীদের মিথ্যা বলার প্রয়োজন নেই। বাস্তবসম্মত পরিকল্পনাগুলো জনমনে পৌঁছে দিলেই যথেষ্ট। “এই কাজ কঠিন, তবুও সবাই চেষ্টা করলে তা সম্ভব,” বলেন তিনি।
নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যেসব ব্যক্তি মসজিদে গিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছেন, তাদের যদি সুযোগ থাকে, তবে বিএনপি নেতা-কর্মীরা কেন পারবেন না? “আপনার এলাকায় ব্যবস্থা নিন। সবার বলার অধিকার আছে। যদি নিয়ম হয়—কেউ বলবে না, তাহলে সেই নিয়ম সবার জন্য প্রযোজ্য হতে হবে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সঞ্চালনায় ছিলেন যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল। উপস্থিত ছিলেন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন, বিএনপি ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হকসহ অন্যরা।




