টানা ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকার পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। গত বছরের জুলাইয়ে ছাত্র ও সাধারণ জনগণের তীব্র আন্দোলনে নড়বড়ে হয়ে পড়ে শেখ হাসিনার সরকার, যার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ৫ আগস্ট দেশত্যাগ করেন। এরপর রাষ্ট্রপতি দ্বাদশ সংসদ বিলুপ্ত করে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করেন, যারা এখন জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্বে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তবে ছয়বার সরকার গঠন করা আওয়ামী লীগসহ কয়েকটি বড় রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
ইসি জানায়, রমজান শুরুর আগে এক সপ্তাহ সময় হাতে রাখার লক্ষ্যেই ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোট আয়োজন করা হয়। কারণ কোনো কেন্দ্র বা আসনে ভোট স্থগিত হলে এক সপ্তাহের মধ্যে পুনঃভোট সম্পন্ন করতে চায় নাসির উদ্দিন কমিশন। আগামী ১৮ বা ১৯ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় ১২ ফেব্রুয়ারিকে সবচেয়ে যৌক্তিক তারিখ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
শবে বরাতের সম্ভাব্য তারিখ ৪ ফেব্রুয়ারি হওয়ায় কমিশন ৮ বা ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট নেওয়ার কথা ভাবছিল। পাশাপাশি আগের ১২টি জাতীয় নির্বাচনের তারিখ বিশ্লেষণ করে বৃহস্পতিবারকে সবচেয়ে উপযোগী দিন মনে করে ইসি।
স্বাধীনতার পর অনুষ্ঠিত ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ছয়বার, বিএনপি চারবার এবং জাতীয় পার্টি দুইবার সরকার গঠন করেছে। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিভিন্ন আন্দোলনের কারণে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সর্বশেষ দ্বাদশ সংসদ পূর্ণ মেয়াদে টেকেনি।
বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ, যেখানে আওয়ামী লীগ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হয়। পরবর্তী কয়েক দশকে সামরিক অভ্যুত্থান, রাজনৈতিক সংকট, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলনসহ নানা কারণে একাধিক সংসদ মেয়াদপূর্বেই ভেঙে দেওয়া হয়। নবম সংসদ নির্বাচনে সর্বোচ্চ ৮৭ শতাংশ এবং ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে সর্বনিম্ন ২৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ ভোট পড়েছিল।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি। এতে ২৮টি দল অংশ নিলেও বিএনপিসহ ১৬টি দল নির্বাচন বর্জন করে। আওয়ামী লীগ ২২২টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে, যদিও ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের কারণে এ সংসদ মাত্র ৬ মাস ৭ দিন স্থায়ী ছিল।




