ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মায়ামিতে ইতিহাস গড়ে টানা দ্বিতীয়বার বর্ষসেরা মেসি

বয়স শুধু সংখ্যামাত্র এ কথার জীবন্ত প্রমাণ লিওনেল মেসি। বুড়ো হাড়ের অভিজ্ঞতা আর অদম্য নৈপুণ্য মিলিয়ে পুরো মৌসুম জুড়েই ইন্টার মায়ামিকে তুলে এনেছেন সাফল্যের চূড়ায়। প্রথমবারের মতো এমএলএস কাপ জিতিয়ে ইতিহাস গড়েছেন তিনি। লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে দাপট দেখানোর পর মৌসুমসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার যে মেসির হাতেই উঠবে, সে বিষয়ে তেমন কোনো সন্দেহই ছিল না।

ইন্টার মায়ামির এই মহাতারকা জিতেছেন মেজর লিগ সকারের মর্যাদাপূর্ণ ‘মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার (এমভিপি)’ পুরস্কার। ৭০ শতাংশ ভোট পেয়ে বাকিদের অনেক পিছনে ফেলে দিয়েছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। গণমাধ্যমের ৮৩.০৫ শতাংশ, খেলোয়াড়দের ৫৫.১৭ শতাংশ এবং ক্লাবের ৭৩.০৮ শতাংশ ভোটে এগিয়ে থেকে সেরা হয়েছেন ৩৮ বছর বয়সী এই ফুটবোল জাদুকর। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সান দিয়েগোর উইঙ্গার অ্যান্ডার্স ড্রেয়ার পেয়েছেন মাত্র ১১ শতাংশ ভোট।

এমএলএস ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা দুই মৌসুমে এমভিপি জয়ের কীর্তি গড়লেন মেসি। আর এই লিগে দুইবার এমভিপি পাওয়া দ্বিতীয় ফুটবলার তিনি ১৯৯৭ ও ২০০৩ সালে এই স্বীকৃতি পেয়েছিলেন প্রেকি।

২০২৫ সাল ছিল মেসির জন্য স্বপ্নের মৌসুম। লিগে ২৮ ম্যাচে ২৯ গোল করে রেকর্ড অষ্টমবারের মতো গোল্ডেন বুট জেতেন। এর সঙ্গে যোগ হয় ১৯টি অ্যাসিস্ট। টানা দু’বার এমএলএস–এ এক মৌসুমে অন্তত ৩৬টি গোলে অবদান রাখার একমাত্র খেলোয়াড় এখন ‘এলএম টেন’।

এ মৌসুমে আরও বেশ কিছু রেকর্ড নিজের করে নেন তিনি। ২৮ মে থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত টানা পাঁচ ম্যাচে গোল করে আরেকটি নতুন মাইলফলক গড়েন মেসি।

পিএসজি ছাড়ার পর ইন্টার মায়ামিতে এসে এক বিশেষ ট্রফির স্বপ্ন পূরণ করতে চেয়েছিলেন তিনি এমএলএস কাপ। মেসি যোগ দেওয়ার আগে এই দল ছিল টেবিলের বেশ নিচে এবং কোনোভাবেই শিরোপার লড়াইয়ের মতো অবস্থায় ছিল না। কিন্তু অভিজ্ঞতা, ভরসা আর তারুণ্যের অসাধারণ মিশ্রণে পুনর্গঠিত মায়ামি মেসির নেতৃত্বে ক্লাবের ইতিহাসে প্রথমবার এমএলএস কাপ উঁচিয়ে ধরে।

কাপের প্লে–অফে মেসির প্রভাব ছিল আরও দুর্দান্ত ৬ গোল আর ৯ অ্যাসিস্ট। ৬ ডিসেম্বরের ফাইনালে হাভিয়ার মাচেরানোর দল ৩–১ গোলে হারায় ভ্যাঙ্কুভার ওয়াইটক্যাপসকে। সেই ম্যাচে দুইটি গোল করান অধিনায়ক মেসি।

ব্যক্তিগত অর্জনে ভরপুর ক্যারিয়ারে মেসির মুকুটে যুক্ত হলো আরেকটি পালক। তার ঝুলিতে রয়েছে ৮টি ব্যালন ডি’অর, ৮টি পিচিচি, ৬টি লা লিগা বর্ষসেরা, ৩টি ফিফা বেস্ট, ৩টি ইউয়েফা প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার, ২টি বিশ্বকাপ গোল্ডেন বল এবং ১৫ বার আর্জেন্টিনার বর্ষসেরা ফুটবলারের স্বীকৃতি।

জাতীয় দল ও ক্লাব মিলিয়ে মেসি এখন পর্যন্ত জিতেছেন ৪৮টি ট্রফি। আরেকটি বিশ্বকাপ জিততে পারলে ছুঁয়ে ফেলবেন ট্রফির হাফ সেঞ্চুরি যা হবে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ঐতিহাসিক কীর্তি। সামনে বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে স্পেনের বিপক্ষে ফিনালিসিমায় নামার কথা আর্জেন্টিনার সর্বোচ্চ গোলদাতার।

সংবাদটি শেয়ার করুন