বাংলাদেশের ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করা নাম মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। অসংখ্য তারকা ক্রিকেটারের গড়ে ওঠার পেছনে এই কোচের অবদান কিংবদন্তিতুল্য। তবে এবার নিজের পরিবারের জন্য, বিশেষ করে ছেলে নুহায়েল সানদীদের মানসিক স্বস্তি রক্ষায় এক বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটে আর কোচিং করবেন না।
১৭ বছর বয়সী সানদীদ ইতোমধ্যে ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলা শুরু করেছেন এবং ডাক পেয়েছেন বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিটে। বাঁহাতি লেগ স্পিনার যে ধরনের বোলার বাংলাদেশে খুবই বিরল। আর তাতেই অনেকে তোলেন প্রশ্ন এতে কি সালাউদ্দিনের প্রভাব কাজ করছে?
নিজের সন্তানের অগ্রগতিতে নেপোটিজমের অভিযোগ যাতে না আসে, সে কারণেই বড় আত্মত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সালাউদ্দিন।
ক্রিকবাজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, আমার ছেলে এখন বড় হচ্ছে। তার ক্রিকেটকে ঘিরে যেন কেউ বলতে না পারে যে বাবার প্রভাবেই এগোচ্ছে। আমি এখানে থাকলে তার জন্য চাপ তৈরি হবে। তাই ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
বছরের পর বছর ধরে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে তিনটি শিরোপা এবং বিপিএলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে চারবার শিরোপা জেতানোর পরও তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কারণে ছেলের মানসিক শান্তি।
বর্তমানে সালাউদ্দিন আছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ হিসেবে। তার মেয়াদ থাকবে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত।
এই মেয়াদ শেষে তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটে আর ফিরবেন না এটাই তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
সালাউদ্দিন বলেন বাবা হিসেবে আমি চাই সে যেন শান্ত মনে খেলতে পারে। আমাকে নিয়ে সমালোচনা হলে বা তাকে নিয়ে গুজব হলে সেটা তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দিতে পারে।
তিনি আরও জানান আমি এখানে থাকলে সে ভাবতে পারে, তার বাবার কারণে অন্যরা কথা বলছে। এই চাপ সে পাওয়ার যোগ্য নয়।
বাংলাদেশের প্রায় দুই শতাধিক তরুণ ক্রিকেটার সরাসরি সালাউদ্দিনের তত্ত্বাবধানে বেড়ে উঠেছেন। সাকিব, মুশফিক, তামিম, লিটন, মুমিনুল যাদের সাফল্যের গল্পে তার ছাপ স্পষ্ট।
আমাকে নিয়ে সমালোচনা হলে আমার ছাত্ররাও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই মনে করি পেশাদার কোচিং থেকে সরে দাঁড়ালে তাদেরও উপকার হবে।
দুই দশকের ক্যারিয়ারের পর সালাউদ্দিন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন টাকা কখনোই আমার কাছে বড় বিষয় ছিল না। আল্লাহ আমাকে যথেষ্ট দিয়েছেন। সম্মান, মর্যাদা এবং মানসিক শান্তিই সবচেয়ে জরুরি।
পেশাদার লিগে না থাকলেও তিনি একাডেমিতে কাজ চালিয়ে যেতে চান। ভবিষ্যতে বাংলাদেশেও ব্যক্তিগত বা ওয়ান-টু-ওয়ান কোচিং সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য তার।
ভারতীয় ক্রিকেটার অভিষেক শর্মার উন্নতির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন যুবরাজ সিংয়ের সঙ্গে ছয় বছরের ওয়ান-টু-ওয়ান কোচিং তাকে বদলে দিয়েছে। আমাদেরও এই মডেলের দিকে যেতে হবে।




