ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সংস্কার সুরক্ষাই ভবিষ্যতের অগ্রযাত্রার ভিত্তি: আসিফ নজরুল

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যে সংস্কারগুলো করা হয়েছে, সেগুলো টিকে থাকা এখন সময়ের দাবি। ভবিষ্যতের যাত্রাপথও এ অর্জনের ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে গড়ে উঠতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, সংস্কার নিয়ে আলোচনা শুরু হলেই অনেকের মধ্যে শঙ্কা দেখা দেয়—পরবর্তী রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় এলে এসব ব্যবস্থা কি টিকে থাকবে? এ বিষয়ে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, দুটি সংস্কার কখনোই হারিয়ে যাবে না।

তিনি জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সুপ্রিম কোর্টের রায়ের মাধ্যমে সুরক্ষিত এবং এটি বাতিল হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। একইভাবে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় আইনটির অভিভাবক হবে সুপ্রিম কোর্ট নিজেই, ফলে এটিও নিরাপদ।

ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি না কোনো সরকার এসব সংস্কার বাতিল করার চিন্তা করবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও স্বাধীন বিচারব্যবস্থা—এই দুটি বিষয় মানবাধিকার অগ্রগতির মূল স্তম্ভ।’

অনুষ্ঠানে তিনি আরও জানান, মানবাধিকার অধ্যাদেশ এবং গুম-সংক্রান্ত অধ্যাদেশের মতো উচ্চাকাঙ্ক্ষী উদ্যোগগুলোও জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ হলেও কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী এগুলোর বিরোধিতা করছে। তবে তিনি মনে করেন, নাগরিক সমাজ এগুলো রক্ষায় ভবিষ্যতে আন্দোলনে নামবে।

তিনি বলেন, প্রক্রিয়াগত আইন সিআরপিসি ও সিপিসির ফাঁকফোকর চিহ্নিত করে সংশোধনের ফলে এখন দ্রুত বিচার পাওয়ার পথ আরও বাস্তবসম্মত হয়েছে, যা কোনো সরকারই পিছিয়ে দেওয়ার কথা ভাববে না।

ড. আসিফ নজরুল অর্জিত সংস্কারগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমরা যা অর্জন করেছি, সেটির মূল্যায়ন করুন। আর যেগুলো অর্জিত হয়নি, সেগুলোর সীমাবদ্ধতা বুঝতে চেষ্টা করুন।’

স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, কমিশন সুপারিশ করতে পারবে এবং সরকার বারবার সেই সুপারিশ উপেক্ষা করলে সেটি সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে—এটি পূর্বে ছিল না। তার মতে, এই কাঠামো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওপর নজরদারি, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা আরও বাড়াবে।

অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ।

এতে আরও বক্তব্য রাখেন—গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, ইউএনডিপির সিনিয়র কর্মকর্তা স্টেফান লিলার এবং সুইস দূতাবাসের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ প্রধান আলবের্তো জিওভানেত্তি।

সংবাদটি শেয়ার করুন