বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান গত এক বছরে সন্তোষজনক অবস্থানে রয়েছে। ২০২৫ সালের প্রথম ১১ মাসে, ১০ লাখ ১১ হাজার ৮৮২ জন বাংলাদেশি বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে গেছেন, যা গত কয়েক বছরের তুলনায় খুবই আশাব্যঞ্জক। বিএমইটি (বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো) জানিয়েছে, ২০২৪ সালে ১০ লাখ ১১ হাজার ৮৫৬ জন এবং ২০২৩ সালে ১৩ লাখ ৩ হাজার ৪৫৩ জন বাংলাদেশি কর্মী বিদেশে গিয়েছিলেন।
এছাড়া, বিএমইটি সূত্রে জানা গেছে যে, ২০০৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৪৪ লাখ ৬১ হাজার ৫৪৬ বাংলাদেশি নাগরিক বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজের সুযোগ পেয়েছেন। এই প্রক্রিয়া বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
এ বছর রেমিট্যান্স প্রবাহও ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছে প্রায় ১৩ দশমিক ০৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা গত বছর একই সময়ে ছিল ১১ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার। এর ফলে দেশের অর্থনীতিতে শক্তিশালী প্রভাব পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রেমিট্যান্স প্রবাহের এই উন্নতি সরকারের কঠোর পদক্ষেপ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রেটের মধ্যে ব্যবধান কমানোর ফল।
কিছু ঐতিহ্যবাহী গন্তব্যের কর্মসংস্থান কিছুটা ধীর হলেও নতুন গন্তব্যে বাংলাদেশি শ্রমিকের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। মালয়েশিয়ার মতো দেশগুলোতে সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দক্ষ শ্রমিকদের পাঠানোর পদক্ষেপ সরকার গ্রহণ করেছে। ২০২৫ সালে সৌদি আরবে ৬ লাখ ৭০ হাজার ৭৪৯ জন, কাতারে ১ লাখ ৪৩৯ জন এবং সিঙ্গাপুরে ৬৪ হাজার ৩২৬ জন বাংলাদেশি গেছেন।
সরকার বিভিন্ন জেলায় কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করে দক্ষ শ্রমিক তৈরিতে গুরুত্ব দিয়েছে। প্রশিক্ষণের মধ্যে রয়েছে জাহাজ নির্মাণ প্রকৌশল ডিপ্লোমা, ওয়েল্ডিং, রাজমিস্ত্রি, বৈদ্যুতিক যন্ত্র রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিভিন্ন ভাষা প্রশিক্ষণ। সরকার দক্ষ শ্রমিকদের জন্য রাশিয়া, পূর্ব ইউরোপ এবং ব্রুনাইয়ের মতো নতুন গন্তব্য অনুসন্ধান করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য সেবা খাতে যেমন নার্স, চিকিৎসক ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে, সেজন্য সরকারকে তাদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও সুযোগ তৈরিতে বিনিয়োগ বাড়ানো উচিত।




