নেপালে গণ-অভ্যুত্থান ও সরকারের পতনের পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনে অংশ নিতে ১১৪টি রাজনৈতিক দলকে অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকায় নাম নিবন্ধনের প্রক্রিয়া চলছে, যেখানে নাগরিকরা তাদের বায়োমেট্রিক তথ্য দিচ্ছেন। ভোটারদের নিবন্ধন প্রায় এক কোটি ৯০ লাখে পৌঁছেছে। ২০২৬ সালের ৫ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
নেপালের নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র নারায়ণ প্রসাদ ভট্টরাই জানিয়েছেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি গতি পেয়েছে এবং ৫ মার্চ নির্ধারিত সময়ে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাইকে আশ্বস্ত করছি যে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমরা একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
এবারের নির্বাচনে নতুন বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে তরুণ নেতৃবৃন্দের দল। যারা গত সেপ্টেম্বর মাসে দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ১১৪টি দলের মধ্যে প্রায় এক-পঞ্চমাংশ নতুন দল এবং এদের মধ্যে বেশ কিছু দল বিক্ষোভের সময় উঠে আসা তরুণদের নেতৃত্বে গঠিত।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভের পর নেপালের রাজনৈতিক পরিবেশে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। ‘জেন জি’ প্রজন্মের তরুণদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই আন্দোলন দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে এবং এর মধ্যে সরকারি অফিস এবং পার্লামেন্ট ভবনে আগুন দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটে। সহিংসতায় কমপক্ষে ৭৩ জন নিহত হয়, যার ফলে সরকার পতনের দিকে এগিয়ে যায়।
নেপালের নির্বাচনে এবার জনগণের অংশগ্রহণ এবং গণতন্ত্রের বিকাশ নিয়ে নানা আশা ও প্রত্যাশা রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ এই নির্বাচনের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মাঝে নতুন সুযোগ তৈরি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।




