ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মানবাধিকার কমিশনে সংস্কার: গঠিত হবে জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা বিভাগ

নতুন কাঠামো ও বিস্তৃত ক্ষমতা যুক্ত করে মানবাধিকার সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ প্রণয়ন করেছে। সংশোধিত এই অধ্যাদেশে প্রথমবারের মতো কমিশনের অধীনে ‘জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা বিভাগ’ নামে একটি বিশেষ ইউনিট গঠনের বিধান যুক্ত করা হয়েছে, যা নির্যাতন ও অমানবিক আচরণ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে অধ্যাদেশের গেজেট প্রকাশ করা হয়।

অপশনাল প্রোটোকল টু দ্য কনভেনশন অ্যাগেইনস্ট টরচার (ওপিসিএটি) বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গঠিত এই বিভাগটির প্রধান থাকবেন কমিশনের চেয়ারপারসন। তাঁর সঙ্গে কমিশন মনোনীত একজন কমিশনার এবং স্বাধীনতা বঞ্চিত ব্যক্তিদের অধিকার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ একজন মানবাধিকারকর্মী অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। প্রয়োজনে আইন, ফরেনসিক মেডিসিন, মনোবিজ্ঞান, মানসিক স্বাস্থ্য, জেন্ডার কিংবা আটক ব্যবস্থাপনা, সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞদেরও কো-অপ্ট বা পরামর্শক হিসেবে যুক্ত করা যাবে।

অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, বিভাগটি কারাগার, থানা, হাজতখানা, শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র, সেনা আটককেন্দ্র, অভিবাসী আটক কেন্দ্র, মানসিক চিকিৎসাকেন্দ্র, সেফ হোমসহ সব ধরনের স্বাধীনতা-বঞ্চনাস্থলে নিয়মিতভাবে এবং পূর্বঘোষণা ছাড়া পরিদর্শন চালাতে পারবে। স্বাধীনতা বঞ্চিত ব্যক্তিদের রেকর্ড, পরিচয়, অবস্থা ও নথিপত্রে তাদের অবাধ প্রবেশাধিকার থাকবে। প্রয়োজন হলে আটক ব্যক্তিদের, তাদের স্বজনদের বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের সঙ্গে একান্ত ও গোপন সাক্ষাৎকারও নিতে পারবে বিভাগটি।

নির্যাতন প্রতিরোধ ও আটক ব্যক্তিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কমিশনের কাছে সুপারিশ প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ বজায় রাখার দায়িত্বও বিভাগটি পালন করবে। একই সঙ্গে জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের নির্যাতন প্রতিরোধবিষয়ক উপকমিটি ও সাব-কমিটি অন প্রিভেনশন অব টর্চার এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিরোধ ব্যবস্থার সঙ্গে সহযোগিতা বজায় রাখার কথাও অধ্যাদেশে উল্লেখ রয়েছে।

পরিদর্শন ও তদন্তে কমিশনের বিদ্যমান ২০ এবং ২৫ ধারার ক্ষমতা প্রয়োগ করা যাবে বলে নতুন অধ্যাদেশে স্পষ্ট করা হয়েছে। বিভাগের কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে সরকার জনবল, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও প্রয়োজনীয় অর্থের নিশ্চয়তা দেবে। কমিশনের অধীনে বিভাগটির জন্য থাকবে পৃথক ও সুরক্ষিত বাজেট, যা এর স্বাধীনতা ও কার্যকারিতাকে আরও জোরদার করবে।

প্রতি বছর বিভাগটি তাদের কার্যক্রম নিয়ে একটি স্বতন্ত্র বার্ষিক প্রতিবেদন তৈরি করবে এবং কমিশনের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তা প্রকাশ করবে। একই প্রতিবেদন জাতিসংঘের নির্যাতন প্রতিরোধ উপকমিটিতেও পাঠানো হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন