ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দায়িত্ব পেলে আবারও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়বে বিএনপি: তারেক রহমান

জনগণ যদি আবার দায়িত্ব দেয়, তবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর অভিযান চালাতে প্রস্তুত বিএনপি—এ কথা জানিয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় দুর্নীতির প্রভাব এখন এত গভীর যে তা দেখার জন্য দূরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। মেধাভিত্তিক চাকরির খোঁজে বের হওয়া এক শিক্ষিত তরুণের গল্প, একটি সাধারণ সরকারি সেবা পেতে মাসের পর মাস ভোগান্তিতে থাকা কৃষকের হতাশা, কিংবা হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা না পেয়ে চরম দুর্ভোগে পড়া রোগীর পরিবারের অসহায় অবস্থাই যথেষ্ট প্রমাণ। ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে ঘুষ দিতে বাধ্য হওয়া উদ্যোক্তাদের যন্ত্রণাও একই বাস্তবতা তুলে ধরে।

আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তারেক রহমান বলেন, খাবারের দাম বাড়া, শিক্ষায় মানহানি, রাস্তাঘাটে নিরাপত্তাহীনতা—এসব সমস্যার মূলেই রয়েছে দুর্নীতি। এটি সাধারণ মানুষের জীবনকে প্রতিদিন সংকুচিত করছে।

তিনি জানান, বাংলাদেশে দুর্নীতিবিরোধী লড়াই নতুন কিছু নয়; এটি দীর্ঘদিনের আলোচিত বিষয়। আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস স্মরণ করিয়ে দেয় সেই সময়গুলোকেও, যখন দেশে প্রকৃত উন্নতি দেখা গিয়েছিল—আর সেই অগ্রগতি মূলত হয়েছিল বিএনপির শাসনামলে।

তারেক রহমান মনে করিয়ে দেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, পরিচ্ছন্ন সরকারি সেবা নিশ্চিত করা এবং অর্থনীতিকে মুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন, যা অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানে আধুনিকায়ন শুরু হয়—নতুন ক্রয় নীতিমালা, কঠোর আর্থিক আইন, শক্তিশালী অডিট ব্যবস্থা ও স্বচ্ছ নজরদারি ব্যবস্থা চালু হয়।

তিনি উল্লেখ করেন, ২০০৪ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রতিষ্ঠা ছিল সেই সময়ের সবচেয়ে বড় সংস্কারমূলক পদক্ষেপ। একটি স্বাধীন সংস্থা হিসেবে দুদকে সরকার চাইলে হস্তক্ষেপ করতে পারে না—যা বিশ্বব্যাংক, এডিবি ও আন্তর্জাতিক মহলের প্রশংসা পেয়েছিল। টিআইবির জরিপ অনুযায়ী ২০০২–২০০৫ সালের মধ্যে দুর্নীতির পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছিল, জনগণও স্বীকার করেছিল যে দুর্নীতি কমেছে।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তি গড়ে তুলেছিল—

• শক্তিশালী অর্থ ব্যবস্থাপনা: বাজেট নিয়ন্ত্রণ, কঠোর অডিট, ব্যাংকিং আইন, মানি লন্ডারিং–বিরোধী আইন
• স্বচ্ছ ক্রয় নীতি: প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ও নিয়মমাফিক সরকারি ক্রয়
• উন্মুক্ত বাজার: টেলিকম, মিডিয়া, বিমান পরিবহন খাতে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি
• ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ: কম জটিল প্রশাসন, বেশি জবাবদিহিতা

তার বক্তব্যে তিনি বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও তুলে ধরেন—যার মধ্যে রয়েছে প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, পুরো প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনা, বিচার ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার সংস্কার, ই–গভর্ন্যান্সের মাধ্যমে ঘুষের সুযোগ কমানো, হুইসলব্লোয়ার সুরক্ষা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা। পাশাপাশি ডিজিটাল ব্যয় ট্র্যাকিং ও স্বাধীন অডিট জোরদার করার কথাও উল্লেখ করা হয়।

সবশেষে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার পর দুর্নীতি দমন কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। ইতিহাস প্রমাণ করে—সৎ নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও জনগণের সমর্থন একত্রে কাজ করলে পরিবর্তন অবশ্যই আসে। জনগণ যদি দায়িত্ব দেয়, বিএনপি আবারও সেই লড়াইয়ের নেতৃত্ব নিতে প্রস্তুত।

সংবাদটি শেয়ার করুন