ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের জুলাই গণহত্যা মামলার তদন্ত শেষ

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও গণহত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও যুবলীগ সভাপতিসহ সাতজনের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ হয়েছে। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিকে একই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে হত্যাকাণ্ড ও গণহত্যার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলের ১৭ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে আজ সকালে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। সকাল পৌনে ১০টার দিকে কেরানীগঞ্জ ও কাশিমপুরসহ বিভিন্ন কারাগার থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাদের আদালতে আনা হয়। পরে একে একে প্রিজনভ্যান থেকে হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে আজ মামলার অগ্রগতি নিয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। হাজির আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক নৌমন্ত্রী শাহজাহান খান, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক এমপি সোলায়মান সেলিম, সাবেক এমপি ফারুক খান, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, সাবেক শিল্প-বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার।

প্রসিকিউশন এদের মধ্যে সালমান এফ রহমান, আনিসুল হক, ইনু ও পলকের বিরুদ্ধে পৃথক ফরমাল চার্জ দাখিল করেছে। ইনুর মামলায় ইতিমধ্যেই সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। এছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করার অভিযোগে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ পলকের বিরুদ্ধে চার্জ নেওয়া হয়েছে এবং জয়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। কারফিউ জারি করে ছাত্র-জনতাকে হত্যার অভিযোগে আনিসুল হক ও সালমানের বিরুদ্ধেও অভিযোগ গ্রহণ করে শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

এর আগে গত ১৫ অক্টোবর আলাদা মামলায় সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করে ৮ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল-১। প্রসিকিউশন অতিরিক্ত সময় চেয়ে একাধিক আবেদন করলেও নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দাখিল না করায় ট্রাইব্যুনাল নতুন সময় ধার্য করেছে।

সকাল থেকেই ট্রাইব্যুনাল চত্বরে কঠোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রবেশের সময় প্রায় সবাইকে তল্লাশি করে ঢুকতে দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের ২০ এপ্রিল ১৯ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছিল। এরপর তদন্তে অতিরিক্ত সময় চেয়ে প্রসিকিউশন আবেদন করে। সব মিলিয়ে একসময়ের প্রভাবশালী মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও এমপিদের বিরুদ্ধে পৃথক চার্জ দাখিলের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন