ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আ.লীগের ঘনিষ্ঠ থেকে হঠাৎ জামায়াতের প্রার্থী কেন কৃষ্ণ নন্দী?

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-১ আসনে এবার প্রথমবারের মতো একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী। এই আসনে কৃষ্ণ নন্দীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তিনি ডুমুরিয়া উপজেলা জামায়াতের হিন্দু কমিটির সভাপতি এবং আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দের ঘনিষ্ঠ।

কৃষ্ণ নন্দী পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তার গ্রামের বাড়ি ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগরে, যেখানে তিনি পৈত্রিকভাবে নিবাসও করছেন। চুকনগর দিব্যপল্লী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষাজীবন শেষ করার পর পারিবারিক ব্যবসা পরিচালনা শুরু করেন। তার ব্যবসার মধ্যে রয়েছে মোটরসাইকেল শোরুম, তেল, রড-সিমেন্ট এবং টিন। পারিবারিকভাবে তার বাবা মুসলিম লীগ নেতা খান এ সবুরের অনুসারী ছিলেন।

কৃষ্ণ নন্দী দাবি করেন, ২০০৩ সালে সাবেক জামায়াতের এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ারের হাত ধরে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। তবে তার রাজনৈতিক যাত্রা নিয়ে বিতর্ক কম নয়। স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সাধারণ জনগণ অভিযোগ করেন, তিনি সাবেক মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় জনপ্রিয় স্থানীয় জামায়াত নেতা শেখ আবু ইউসুফকে হারিয়ে মনোনয়ন পেয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্ত্রীর সঙ্গে তার বিভিন্ন কর্মসূচির ছবি ছড়িয়ে আছে।

প্রাথমিকভাবে কৃষ্ণ নন্দীর উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, তার প্রতিবেশী রাষ্ট্রের বিশেষ একটি সংস্থার সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। এছাড়া বিতর্কিত ব্যক্তি ওয়ার্ল্ড হিন্দু স্ট্রাগলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শিপন কুমার বসুর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এমনকি শিপনের সঙ্গে এক বৈঠকে ভারতের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা (আইবি)-এর একজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ক্ষুব্ধ জনতা তাকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ মনে করে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে আগুন দিয়েছে। নিজেকে রক্ষা করতে কৃষ্ণ নন্দী জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। তবে কৃষ্ণ নন্দী এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মন্ত্রীর সঙ্গে তার সম্পর্ক কেবল ব্যবসায়িক ছিল এবং তা অতিরঞ্জিতভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, ২০০৩ সাল থেকে তিনি জামায়াতের রাজনীতিতে যুক্ত এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সংখ্যালঘুবান্ধব মনোভাবের কারণে এ দলের প্রতি আস্থা রাখেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন