ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জামায়াতের প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ পড়ল ১০০ জন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পূর্বঘোষিত প্রার্থীদের তালিকা থেকে ৮০ থেকে ১০০ জন প্রার্থী বাদ পড়তে পারেন। দলের চলমান যুগপৎ আন্দোলন এবং পাঁচ দফা দাবির অংশ হিসেবে অন্যান্য সাতটি ইসলামি দলকে আসন ছাড়ার সুযোগ দেওয়া হবে। নির্ভরযোগ্য সূত্রের মতে, প্রার্থীদের বদল করা হবে তাদের জনপ্রিয়তা, শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিত্ব এবং দলীয় স্বার্থের ভিত্তিতে।

জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব যোবায়ের জানান, সংখ্যার ভিত্তিতে আসন ভাগাভাগি করা হবে না, বরং যেখানে প্রার্থী বিজয়ী হতে পারবেন, তাঁকেই প্রার্থী করা হবে।

সংসদ নির্বাচনের আগে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ইসলামি দলগুলো এবার নির্বাচনী সমঝোতার দিকে এগোচ্ছে। ‘

ইসলামি দলগুলোর সব ভোট এক বাক্সে’ আনা দলগুলোর মূল লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে আটটি ইসলামি দল একক প্রার্থী নির্ধারণে কাজ করছে। মাঠ জরিপের মাধ্যমে প্রার্থীর জনপ্রিয়তা যাচাই করা হচ্ছে এবং বিভাগীয় সমাবেশ শেষে লিয়াজো কমিটি চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করবে।

জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত আন্দোলনসহ আট দলের সূত্র বলছে, আসন সংখ্যা ও বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা মাঠ জরিপের উপর নির্ভর করছে।

তবে আসন বণ্টন নিয়ে কিছুটা জটিলতা রয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দপ্তর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরী জানান, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন বড় দল হিসেবে সমানভাবে আসন পাবেন, তবে পার্লামেন্টে আগে থাকা জামায়াত কিছুটা বেশি আসন পেতে পারেন। এছাড়া ৬টি ছোট দলও কিছু আসনে প্রার্থী পাবেন।

প্রার্থীর সংখ্যা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং মোট ৩০০ আসনের জন্য তালিকা প্রস্তুত রয়েছে।

খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী বলেন, তারা প্রায় ২০টি আসনে প্রার্থী দেবেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের উপর নির্ভর করবে। অন্যান্য ইসলামি দলও প্রার্থী জরিপ ও তালিকা প্রস্তুত করছে।

জামায়াতের প্রার্থী তালিকায় ইতোমধ্যে ঢাকার কিছু আসনে দলের শীর্ষ নেতারা মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন। তবে বেশিরভাগ আসনে এখনও একাধিক প্রার্থী রয়েছে এবং সমঝোতার ভিত্তিতে রদবদল হতে পারে। এছাড়া হিন্দু ও উপজাতি প্রার্থীরাও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। ডাকসু ও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের বিজয়ীদের মধ্য থেকেও কিছু প্রার্থী মনোনয়ন পেতে পারেন।

এছাড়া চলতি প্রার্থীবদলের অংশ হিসেবে হবিগঞ্জ-৪, কুড়িগ্রাম, বিভিন্ন নারী প্রার্থী এবং জুলাই যোদ্ধাদের মনোনয়ন নিশ্চিত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, প্রার্থীদের বদল শুরু হয়েছে এবং অন্তত ৮০ থেকে সর্বোচ্চ ১০০ জন পূর্বঘোষিত প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ পড়বেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন