ভারত ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে আবারও শক্তভাবে তুলে ধরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, দুই দেশের বন্ধুত্ব সময়ের পরীক্ষায় বারবার সফল হয়েছে এবং এর সুফল পেয়েছে উভয় দেশের জনগণ।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) রাতে দুই দিনের সফরে দিল্লিতে পৌঁছানো রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানানোর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মোদী এ মন্তব্য করেন। তিনি লেখেন, “আমার বন্ধু প্রেসিডেন্ট পুতিনকে ভারতে স্বাগত জানাতে পেরে আনন্দিত। আজকের ও আগামীকালের আলোচনার জন্য অপেক্ষায় আছি।”
বিমানবন্দরে স্বাগত জানানোর পর পুতিনকে রুশ ভাষায় অনূদিত ‘ভগবদ্গীতা’র একটি কপি উপহার দেন মোদী। এক্সে দেওয়া আরেক পোস্টে তিনি লেখেন, “গীতার শিক্ষায় বিশ্বের কোটি মানুষ প্রেরণা পায়। প্রেসিডেন্ট পুতিনকে রুশ ভাষার একটি গীতা উপহার দিলাম।”
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে পুতিন দিল্লিতে পৌঁছান। বিমানবন্দরে মোদী সরাসরি উপস্থিত হয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানান।
শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) দুই দেশের মধ্যে শীর্ষস্তরের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন পুতিন ও মোদী। তার আগে রাষ্ট্রপতি ভবনে পুতিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয় এবং সকালে তিনি রাজঘাটে গিয়ে মহাত্মা গান্ধীর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, পুতিনের সঙ্গে একটি বড় ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলও এসেছে। ভারত আশা করছে, রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘ কৌশলগত অংশীদারত্বের ভিত্তিতে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। আলোচনা মূলত প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও বাণিজ্য—এই তিন ক্ষেত্রকে কেন্দ্র করেই এগিয়েছে। পাশাপাশি পণ্য পরিবহণ, স্বাস্থ্যসেবা, সার ও যোগাযোগ খাতে কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকে অতিরিক্ত এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম কেনার পরিকল্পনা এবং ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ বিলম্ব– এসব বিষয়েও বিস্তৃত আলোচনা হয়। ২০১৮ সালে ৫ বিলিয়ন ডলারের যে চুক্তিতে এস-৪০০ কেনা হয়েছিল, তা ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুরে’র সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।




