সপ্তাহের প্রথম দিন থেকেই অস্থিরতা আর পতন গ্রাস করেছে দেশের শেয়ারবাজারকে। এর জের ধরে সাপ্তাহিক লেনদেনের শেষ দিন, বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর), দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স-এ পতন দেখা গেছে, যা বাজারকে ঠেলে দিয়েছে তলানিতে।
এদিন সূচক ৩৯ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৮৮৬ পয়েন্টে অবস্থান নেয়। এই উল্লেখযোগ্য পতনের কারণ অনুসন্ধানে দেখা যায়, এর মূলে ছিল ডিএসইতে তালিকাভুক্ত ১০টি হেভিওয়েট কোম্পানি। এই প্রভাবশালী কোম্পানিগুলোর সম্মিলিত দরপতনই বাজারের সার্বিক পতনকে ত্বরান্বিত করেছে। এককভাবে এই ১০টি কোম্পানিই সূচক থেকে ১৩ পয়েন্টেরও বেশি কমিয়েছে, যা অন্য যেকোনো ইতিবাচক প্রবণতাকে পুরোপুরি নস্যাৎ করে দিয়েছে।
পতনের মূলে যে ১০ কোম্পানি রয়েছে সেগুলো হলো— ইসলামী ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, শাহজীবাজার পাওয়ার, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ, ডিবিএইচ ফাইন্যান্স পিএলসি, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক এবং একমি ল্যাবরেটরিজ। এই ১০টি কোম্পানি সূচকে ১৩ পয়েন্টের বেশি কমিয়েছে, যা বাজারের সার্বিক উত্থানের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি নস্যাৎ করেছে।
কোম্পানিগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ পয়েন্ট কমিয়েছে ইসলামী ব্যাংক। আজ ডিএসইর সূচকে ব্যাংকটি ২ পয়েন্টের বেশি কমিয়েছে। এদিন ব্যাংকটির শেয়ার দর ৪০ পয়সা বা ১.১০ শতাংশ কমে ৩৬ টাকায় দাঁড়িয়েছে। গতকাল ব্যাংকটির সর্বশেষ দর ছিল ৩৬ টাকা ৪০ পয়সা। আর কোম্পানিটির শেয়ার দর ৩৫ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ৩৭ টাকা পর্যন্ত উঠানামা করেছে। দিনশেষে কোম্পানিটির ১৮ লাখ ৩১ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রায় ২ পয়েন্ট কমিয়েছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস। আজ ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ার দর ৯০ পয়সা বা ০.৪৪ শতাংশ কমে ২০২ টাকা ৭০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। গতকাল কোম্পানিটির সর্বশেষ দর ছিল ২০৩ টাকা ৬০ পয়সা। আর কোম্পানিটির শেয়ার দর ২০২ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ২০৩ টাকা ৬০ পয়সা পর্যন্ত উঠানামা করেছে। দিনশেষে কোম্পানিটির ৪ কোটি ৮৩ লাখ ৯৯ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।
তৃতীয় সর্বোচ্চ প্রায় ২ পয়েন্ট কমিয়েছে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ। আজ ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ার দর ৩ টাকা ৪০ পয়সা বা ০.৯০ শতাংশ কমে ৩৭৩ টাকায় দাঁড়িয়েছে। গতকাল কোম্পানিটির সর্বশেষ দর ছিল ৩৭৬ টাকা ৪০ পয়সা। আর কোম্পানিটির শেয়ার দর ৩৭২ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ৩৭৯ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত উঠানামা করেছে। দিনশেষে কোম্পানিটির ৩৪ লাখ ৭৩ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়।
এছাড়া, সূচক পতনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা অন্যান্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট ১ পয়েন্টের বেশি, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ ১ পয়েন্টের বেশি, শাহজীবাজার পাওয়ার ১ পয়েন্টের বেশি, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ ১ পয়েন্টের বেশি, ডিবিএইচ ফাইন্যান্স পিএলসি ১ পয়েন্টের বেশি, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক ১ পয়েন্টের বেশি এবং একমি ল্যাবরেটরিজ প্রায় ১ পয়েন্ট কমিয়েছে। এই ১০টি হেভিওয়েট শেয়ারের সম্মিলিত দরপতনই ডিএসই-এর বড় পতনকে ত্বরান্বিত করেছে।




