ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে প্লাস্টিকের দৈত্যে আ’তঙ্ক ও সচেতনতা

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে সমুদ্রের প্লাস্টিক দূষণের ভয়াবহতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে তৈরি করা হয়েছে এক বিশাল প্লাস্টিকের দানব। জেলা প্রশাসন ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পরিত্যক্ত সামুদ্রিক প্লাস্টিক দিয়ে স্বেচ্ছাসেবীরা এই ভাস্কর্য নির্মাণ করেছেন। সৈকতের সুগন্ধা সীগাল পয়েন্টে এটি প্রদর্শিত হচ্ছে। পাশাপাশি তিন মাসব্যাপী চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজনও করা হয়েছে।

বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় ভাস্কর্যটির উদ্বোধন করেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান। আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শহীদুল আলম ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের গভর্নিং বডির সদস্য জামাল উদ্দিন।

সীগাল পয়েন্টের বালিয়াড়িতে দাঁড়িয়ে থাকা প্লাস্টিকের দানবটি ভাস্কর্যের থাবায় ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে মানবদেহ, প্রকৃতি ও সামুদ্রিক প্রাণবৈচিত্র্য—প্রতীকী হলেও দর্শকদের মনে সচেতনতা সৃষ্টি করছে। দর্শকরা দেখতে পেলে বুঝতে পারবেন প্লাস্টিক দূষণের ভয়াবহ প্রভাব।

পরিচালকেরা জানিয়েছেন, কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিন দ্বীপের সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন লাখো পর্যটক সমুদ্র সৈকতে আসে। অনেকেই প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলে, যা দূষণ বাড়াচ্ছে এবং সামুদ্রিক জীব ও মানুষের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। সচেতনতা সৃষ্টির জন্য এ ভিন্নধর্মী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, প্রশাসন সবসময় এ ধরনের উদ্যোগের সঙ্গে থাকবে এবং আশা করছেন, প্রদর্শনী মানুষকে প্লাস্টিক ব্যবহারে আরও সতর্ক করবে। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের জামাল উদ্দিন বলেন, সরকারের পরিবেশ মন্ত্রণালয় প্লাস্টিক দূষণের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়েছে। সরকারের নীতির সঙ্গে সমন্বয় করে তারা দেশব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমে ৫০০ মেট্রিক টন প্লাস্টিক রিসাইকেল করেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিল্পী আবীর কর্মকার জানিয়েছেন, প্লাস্টিকের দানবটি শিল্পীদের দ্বারা তৈরি বিশ্বের সবচেয়ে বড় ‘প্লাস্টিক দৈত্য’। তৈরি করতে প্রায় ৬ মেট্রিক টন প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া স্বেচ্ছাসেবক মুহাম্মদ মুবারক জানান, কক্সবাজার, ইনানী ও টেকনাফের সৈকত থেকে চার মাসে অন্তত ৮০ মেট্রিক টন প্লাস্টিক সংগ্রহ করা হয়েছে, যার একটি অংশ ব্যবহার করে এই ভাস্কর্য তৈরি করা হয়েছে।

পূর্ণ পর্যটন মৌসুম জুড়ে এটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্রদর্শনীর পাশাপাশি প্লাস্টিক দূষণবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধিতে পথনাটক ও সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজনও করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন