সাভারের আশুলিয়া থানার আওতায় অবস্থিত একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে পিকনিকের কথা বলে ডেকে নিয়ে ‘মজোর’ সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে গণধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের পর জিম্মি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী দেলোয়ার ভূইয়া, তাজুল ইসলাম তাজ, সিনিয়র অন্তু দেওয়ান এবং বহিরাগত শ্রাবণ শাহা।
পুলিশ জানায়, অন্তু দেওয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য নির্বাচিত ভিপি ইয়াছিন আল মৃদুল দেওয়ানের চাচাতো ভাই। বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ত্রাস ও সন্ত্রাস ছড়ানো এবং নারী শিক্ষার্থীদের উত্যক্ত করার সঙ্গে জড়িত। ভিপির ভাই হওয়ার কারণে কেউ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে সাহস পেত না।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৭ এপ্রিল সকালে ভুক্তভোগীকে পিকনিকে যাওয়ার কথা বলে আশুলিয়ার ফুলেরটেক এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। পথে কোমল পানীয়ের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে তাকে অচেতন করা হয়। বিকেল ৫টার দিকে জ্ঞান ফিরলে নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-মেসে দেখতে পান এবং বুঝতে পারেন জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক করা হয়েছে। পরে ডাক-চিৎকার করলে আসামিরা ভিডিও ও অশ্লীল ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল করার হুমকি দেয় এবং জিম্মি করে মোট ৯৬ হাজার টাকা আদায় করে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, ৬ নভেম্বর ও ৩ ডিসেম্বরও তার ওপর শারীরিক সম্পর্কের জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। না মানলে মারধর ও জোরপূর্বক চেতনানাশক পানীয় খাইয়ে তাকে অসুস্থ করা হয়। পরে সহপাঠী ও শিক্ষকরা তাকে মেডিকেলে ভর্তি করান এবং অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।
মামলার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী পরিবারের সঙ্গে থানায় এসে ৩ ডিসেম্বর চারজনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে ১৭ ঘণ্টার মধ্যে চারজনকেই গ্রেফতার করে। বর্তমানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা ভিপির কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে




