ঢাকা | বৃহস্পতিবার
২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিমান বিধ্বস্ত: ২০ জনের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর

রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহতদের মধ্যে ২০ জনের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ৬ জনের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। নিহত ২৭ জনের মধ্যে ২৫ জন শিশু।

মঙ্গলবার সকাল ৮টায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের প্রশাসনিক ব্লকে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান হাসপাতালের সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. সাইদুর রহমান। নিহত ২৭ জনের মধ্যে ২৫ জন শিশু

ডা. মো. সায়েদুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনায় আহত হয়ে এখন পর্যন্ত ৭৮ জন বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ১০ জন। এ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৪২ জনের মধ্যে তিনজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং আইসিইউতে রয়েছেন ৫ জন।

কম্বাইন্ড মিলিটারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ২৮ জন, যেখানে সর্বোচ্চ ১৫টি মরদেহ রাখা হয়েছে। এদের মধ্যে ৮ জনের মরদেহ ইতোমধ্যে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একটি মরদেহের অবস্থা এতটাই বিক্ষত ছিল যে, সেটিকে ‘দেহাবশেষ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন চিকিৎসকরা। সেখানে পাইলটের মরদেহ এখনও হস্তান্তর হয়নি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরিত ৪ জনের মধ্যে একজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে, বাকি ৩ জনের মধ্যে ২ জন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।

সংবাদ সম্মেলনে ডা. সাইদুর রহমান আরও বলেন, ‘রক্তদাতার অভাব এখন নেই। তবে রক্তের ঋণাত্মক গ্রুপের (Negative Blood Group) সংকট দেখা দিতে পারে। তাই শুধুমাত্র নেগেটিভ রক্তদাতাদের হাসপাতালের সামনে আসার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

তিনি আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, আমরা একটি অত্যন্ত খারাপ সময় পার করছি। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে দেশবাসীর দোয়া ও আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

বিমান দুর্ঘটনার পর থেকে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটসহ ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে আহতদের। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা রক্তের জোগান দিতে এগিয়ে আসছেন।

উত্তরার দিয়াবাড়ির মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে হঠাৎ আছড়ে পরে বিমান বাহিনীর এফ সেভেন বিজিআই নামে প্রশিক্ষণ বিমান। দোতলা ভবনের নিচ তলায় আঘাত লেগে মুহূর্তেই বিমানের ট্যাংক বিস্ফোরিত হয়। আগুন ছড়িয়ে পড়ে দ্বিতীয় তলায়ও। আতঙ্কে ছুটতে থাকেন শিক্ষার্থী-শিক্ষক ও কর্মচারীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, বিমানটি বিধস্ত হওয়ার সময় যে বিকট শব্দ হয় তা কোনো বোমার থেকে কম নয়। প্রথমদিকে ঘটনাস্থলে আগুনের তীব্রতায় কেউ কাছে পৌঁছাতে পারেনি।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভাতে ও উদ্ধার কাজে যোগ দেয় তারা। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে সরকার।

আইএসপিআরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এফটি-৭ বিজিআই যুদ্ধবিমান নিয়মিত প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে আজ সোমবার বেলা ০১টা ০৬ মিনিটে ঢাকার কুর্মিটোলার বিমান বাহিনী ঘাঁটি এ কে খন্দকার থেকে উড্ডয়নের পর যান্ত্রিক ত্রুটির সম্মুখীন হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন