ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

উলিপুরে তিস্তার চরাঞ্চল জুড়ে পাট চাষ, কাটা ও জাগ দেওয়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা

কুড়িগ্রামের উলিপুরে তিস্তার চরাঞ্চল জুড়ে দেখা যায় পাট চাষ। কাটা ও জাগ দেওয়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। তিস্তার চরাঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের চাষাবাদের মধ্যে পাট চাষ একটি অন্যতম অর্থকারী ফসলের চাষ।

চরাঞ্চলের পাটের আঁশ দেখলে পাটকে যে সোনালী আশ বলা হয় তা মনে করিয়ে দেয়। পাটের বাম্পার ফলনে খুশি চরাঞ্চলের মানুষ। যেদিকে চোখ যায় সেদিকে সবুজের সমারহ দেখা যায়। গত কয়েক বছর আগে চরাঞ্চলে পাটের চাষ কম হত। এখন বাম্পার ফলন ও বাজারদর ভালো থাকায় চরাঞ্চলে পাট চাষের প্রতি আগ্রহ দেখা দিয়েছে পাট চাষিদের।

উপজেলা কৃষি আফিস সূত্রে জানা যায়, এবারে উপজেলায় পাট চাষের লক্ষ্য মাত্রা ২হাজার ৬’শ ৮০ হেক্টর। অর্জিত হয়েছে ২হজার ৫’শ ৩০ হেক্টর। উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ হাজার ৩’শ ৪০ মেট্রিকটন। এছাড়া ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পাট চাষিদের বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। পাট চাষিদের উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

জানা যায়, থেতরাই, দলদলিয়া, গুনাইগাছ ও বজরা ইউনিয়ন তিস্তা নদী দ্বারা বেষ্টিত।

এ সকল ইউনিয়নে তিস্তা নদীতে ভেসে উঠেছে অসংখ্য চর। আর এ চরগুলোতে বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষাবাদ করা হয়। তারমধ্যে সোনালী আঁস পাট চাষ রয়েছে। কৃষকেরা জানান, গত বছর দফায় দফায় বন্যায় ভারত থেকে পানির সঙ্গে কাদা পানি আসার ফলে তিস্তা নদীর বালু মাটির উপর পলি জমেছে। ফলে এসব জমিতে বিভিন্ন ধরনের ফসলের চাষাবাদ ভালো হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন চরাঞ্চলের চাষিরা।

সরেজমিন উপজেলার তিস্তা নদী বেষ্টিত বিভিন্ন ইউনিয়নে ভেসে উঠা চরাঞ্চল গুলোতে গিয়ে দেখা যায়, চর গুলো যেনো সবুজ রঙে নতুন করে সেজেছে। মাঠের পর মাঠ সোনালী আঁশ পাটের ক্ষেত।

আর এ সোনালী আঁশকে ঘিরে স্বপ্ন দেখছেন চরাঞ্চলের চাষিরা। পাটগাছ পরিপক্ক হওয়ায় কাটা ও জাগ দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চরাঞ্চলের কৃষকেরা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পাট চাষিরা পাট জাগ দেয়া নিয়ে চিন্তিত থাকলেও চরাঞ্চলের পাট চাষিদের জাগ দেয়া নিয়ে নেই কোন চিন্তা। কয়েক দিনের বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরাঞ্চলের নিচু এলাকা গুলোতে হাঁটু পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে যায়। এসব নিচু এলাকা গুলোতে পাট জাগ দেওয়া ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। তারা জানান, এবারে পাটের ফলন আনেক ভালো হয়েছে। বাজার দর ভালো থাকলে তারা আনেক লাভবান হতে পারবেন।

থেতরাই ইউনিয়নের জুয়ান সতরা চর এলাকার পাটচাষি নজরুল ইসলাম জানান, এবারে চরাঞ্চলে পাট চাষ করেছেন ৮০ শতক। পাট জাগ দেয়া পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ১৬ হাজার টাকা। পাট ধুয়ে ঘরে আনা পর্যন্ত আরও খরচ হবে ৮ হাজার টাকা। মোট খরচ হবে প্রায় ২৪ হাজার টাকা। তিনি ১৬ মণ সোনালী আঁশের আশা করছেন । মণ প্রতি ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি করলেও মোট আয় হয় ৬৪ হাজার টাকা। এছাড়া বিভিন্ন চরাঞ্চরে পাট চাষিদের মধ্যে সফিকুল ইসলাস, চাদ মিয়া, মাঈদুল ইসলাম, বকুল মিয়া, নুরুজ্জামাল, বাবলু মিয়া ও রবিউল সহ আরও অনেক পাট চাষি বলেন, এবারে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চরাঞ্চলে পাটের ফলন অনেক ভালো হয়েছে। তবে সার বীজ ও কীটনাশক সহ অন্যন্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্রের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় পাট চাষে ব্যয় বেশি হয়েছে। তারপরেও পাটের বাজারদর ভালো থাকলে লাভবান হওয়া যাবে বলে জানান তারা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ মোশারফ হোসেন জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবারে চরাঞ্চলে পাটের চাষ অনেক ভালো হয়েছে। এছাড়া তিস্তার চরাঞ্চল বিভিন্ন ধরনের চাষাবাদের জন্য উপযোগী হয়ে উঠেছে। প্রতি বছর চরাঞ্চলে পাটের ফলন ভালো হয়ে থাকে। উচুঁ এলাকায় পানি সংকটে পাট জাগ দেয়া সমস্যা দেখা দিলেও চরাঞ্চলে তেমন পানি সংকট নেই। পাটের বাজার ভালো থাকলে চাষিরা অনেক লাভবান হবেন বলে জানান তিনি।

সংবাদটি শেয়ার করুন