বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশের ১১ সদস্য বিশিষ্ট দলের নেতৃত্ব দেন মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এমপি এবং সৌদি আরবের পক্ষে নেতৃত্ব দেন সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র উপমন্ত্রী ড. নাছির আব্দুল আজিজ আব্দুল্লাহ আল দাউদ।
আজ (১৩ নভেম্বর) বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে উভয় মন্ত্রী নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয়, ভিসা সহজীকরণ, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দক্ষতা বৃদ্ধি, রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান, মানব পাচার ও মাদক নিয়ন্ত্রণে পারষ্পরিক সহযোগিতা এবং হজ ও উমরা পদ্ধতি সহজীকরণ সম্পর্কে আলোচনা করেন।
বাংলাদেশী হজযাত্রীরা এখন থেকে দেশেই ইমিগ্রেশন কার্যক্রম শেষ করে সরাসরি সৌদি আরবে তাদের নিজ নিজ অবস্থানে যেতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সৌদি বিমানবন্দরে দ্বিতীয় দফায় কোনো ইমিগ্রেশন কার্যক্রম করতে হবেনা।
বৈঠকে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র উপমন্ত্রী দুই দেশের পক্ষে Security Cooperation Agreement এবং Road to Makkah Service Agreement নামে দুইটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
শুরুতে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র উপমন্ত্রীকে বাংলাদেশে স্বাগত জানান। বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ গভীর সম্পর্কের বিষয়ে স্মরণ করেন। তিনি দুই দেশের মধ্যে ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক সামঞ্জস্যতার কথা উল্লেখ করে দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে মর্মে আশা প্রকাশ করেন।
সৌদি স্বরাষ্ট্র উপমন্ত্রী এ অঞ্চলে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে উভয় দেশের সহযোগিতার উপরে গুরুত্বারুপ করে দুই দেশের মধ্যে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। জবাবে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক একটি চুক্তি করার কথা বলেন। দুই দেশ এতে সম্মত হন।
Road to Makkah Service Agreement স্বাক্ষরের ফলে বাংলাদেশী হজযাত্রীদের হজযাত্রা সহজ হবে। ফলে হজযাত্রীরা বাংলাদেশেই তাদের ইমিগ্রেশন কার্যক্রম শেষ করে সরাসরি সৌদি আরবে তাদের নিজ নিজ অবস্থানে যেতে পারবেন। এক্ষেত্রে সৌদি বিমানবন্দরে দ্বিতীয় দফায় কোনো ইমিগ্রেশন কার্যক্রম করতে হবেনা। ফলে হজযাত্রীদের উমরা ও হজব্রত পালন করা অনেক সহজ হবে।
বাংলাদেশের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৌদি সরকার ও জনগণের প্রতি বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। তিনি বাংলাদেশ এবং সৌদি আরবের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সন্ত্রাস জঙ্গীবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স নীতির কথা দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন।
দুই দেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দক্ষতা বৃদ্ধিতে পারস্পরিক প্রশিক্ষণ সহযোগীতা প্রদানের বিষয়ে বিষদ আলোচনা হয়। সন্ত্রাস দমন, মাদক নির্মূল এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কাজের বিরুদ্ধে দু’ দেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পারষ্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া বৈঠকে সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশী নাগরিকদের ট্রাভেল ডকুমেন্ট হালনাগাদ করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
বাংলাদেশের পক্ষ হতে রোহিঙ্গ প্রত্যাবাসনে সৌদি সরকার ও OIC এর সহযোগিতা কামনা করেন। সৌদি প্রতিনিধি দলের পক্ষ হতে এ বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতার দেবেন বলেন। বৈঠক শেষে সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র উপমন্ত্রীর সন্মানে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদেয় মধ্যাহ্নভোজে মাননীয় মন্ত্রীবর্গ অংশ নেন।
বৈঠকে জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব আমিনুল ইসলাম খান, সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব আবদুল্লাহ আল মাসুদ চৌধুরী, সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর রাষ্ট্রদূত ড. জাবেদ পাটোয়ারী, বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ঈসা ইউসুফ ঈসা আলদুহাইলান, বাংলাদেশ পুলিশের মহা পরিদর্শক আবদুল্লাহ আল মামুন, বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোঃ নুরুল আনোয়ারসহ স্বরাষ্ট্র ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আনন্দবাজার/কআ




