ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মৌসুমের শুরুতেই সার সংকট

মৌসুমের শুরুতেই সার সংকট
  • সুযোগে দাম বাড়াচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা
  • আমন আবাদে খরচ বাড়বে
  • ৭৫০ টাকার পটাশ এক হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি

রাজশাহীতে আমন মৌসুমের শুরুতেই সারের সংকটে পড়েছে কৃষক। বিশেষ করে এমওপি (পটাশ) এবং টিএসপি (ফসফেট) সারের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। শুধু রাজশাহীতেই জুলাই মাসে প্রায় ১৩৬ মে. টন এমওপি সারের ঘাটতি ছিল। চলতি মাসে এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ৮০০ মে. টন।

রাজশাহী জেলাসহ নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে সার সরবরাহ করা হয়। জুলাই মাসে নওগাঁ জেলায় এমওপি’র বরাদ্দ ছিলো ১ হাজার ৭৮৩ মে. টন। সেখানে সরবরাহ ছিল প্রায় ৯৪০ মে. টন। ঘাটতি রয়েছে প্রায় ৮৯২ মে. টন। এছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুরে এমওপি’র বরাদ্দ ছিলো এক হাজার ৩৬ মে.টন। এখানেও ঘাটতি ছিলো প্রায় ২৮৭ মে.টন।

রাসায়নিক সারের সংকটে ব্যাহত হচ্ছে ধানের আবাদ। উপায় না পেয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপিসহ অন্যান্য সার। যে কারণে বাড়ছে ধানের উৎপাদন খরচ।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য মতে, এ বছর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ৮০ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এরই মধ্যে মঙ্গলবার পর্যন্ত ৪২ হাজার ৯০৪ হেক্টর জমিতে ধানের চারা রোপণ শেষ হয়েছে। রাজশাহী জেলার বোয়ালিয়া, ৭২টি ইউনিয়ন ও ১৪টি পৌরসভায় চলতি মাসে সারের বরাদ্দ হচ্ছে টিএসপি ৬৬৩ মে.টন, এমপি ৮০০ মে.টন ও ডিএপি এক হাজার ৫৩১ মে.টন।

শুধুমাত্র নওহাটা পৌরসভায় এবারে আমনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১১ হাজার ১৬০ বিঘা। কৃষি কর্মকর্তাদের হিসেব অনুযায়ি, প্রতি বিঘা জমিতে প্রথমেই দরকার হয় ডিএপি ১৫ কেজি, এমওপি ১০ এবং ইউরিয়া ১০ কেজি। সেখানে ১১২ মে. টন এমওপি অর্থাৎ দুই হাজার ২৩২ বস্তা। ডিএপি ১৬৭ মে.টন অর্থাৎ তিন হাজার ৩৪৮ বস্তা প্রয়োজন। নওহাটা পৌরসভায় বিসিআইসি ডিলারসহ বিএডিসি ডিলার সাতজন। এদের বরাদ্দকৃত সার হচ্ছে-টিএসপি ২৩১ বস্তা, এমওপি ২০৩ বস্তা, ডিএপি ৩৫০ বস্তা। মোট চাহিদার ২৫ শতাংশ সারও বরাদ্দ নাই এই পৌরসভায়।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসেব মতে, জেলায় ৮০ হাজার ৫০ হেক্টর (৫ লাখ সাড়ে ৯৫ হাজার) আমন আবাদে প্রথমেই সারের প্রয়োজন ডিএপি ৮ হাজার ৯৩৩ মে. টন অর্থাৎ ১ লাখ সাড়ে ৭৮ হাজার বস্তা, এমওপি প্রায় ৬ হাজার মে. টন অর্থাৎ প্রায় এক লাখ ২০ হাজার বস্তা প্রয়োজন। অথচ এ মাসের বরাদ্দ এমওপি ১৬ হাজার বস্তা, ডিএপি ৩০ হাজার ৬২০ বস্তা। চাহিদার তুলানায় বরাদ্দ কতটা অপ্রতুল যা সহজেই বুঝা যায়।
নওহাটা পৌরসভার তেঘর গ্রামের কৃষক আফাজ উদ্দিন সরকার বলেন, ‘আমি ৫ বিঘা জমিতে আমন ধান করেছি। এখন ধানে সার দেয়া দরকার। কিন্তু দোকানে সার পাওয়া যাচ্ছে না। যাও পাওয়া যাচ্ছে তার দাম বেশি। এতে কি ধানের চাষ করা যায়।’

কৃষকেরা জানান, সার ডিলারগুলো এমওপি সার নিয়ে কৃষকের সাথে লুকোচুরি খেলছে। নিজ ঘরে সার থাকলেও এক ডিলারে কাছে গেলে এমওপি সার না দিয়ে অন্য ডিলারে কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে। কোন কোন ডিলার পটাশ সংকট দেখিয়ে ৭৫০ টাকার বস্তার এমওপি(পটাশ) সার এক হাজার ২৫০ টাকা নিয়ে বিক্রি করছে বলে একাধিক কৃষকের অভিযোগ।

তানোর উপজেলার বিসিআইসি সার ডিলার সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী বাবু জানান, চাহিদার চেয়ে জুলাই মাসে এমওপি সারের বরাদ্দ কম ছিল। ৩২ ডিলারকে ৮০ বস্তা করে দেয়া কথা থাকলেও কয়েকজন ডিলার গোডাউনে সার না থাকায় তুলতে পারেনি। এ বরাদ্দ বিএডিসির। তবে বিসিআইসি বরাদ্দ দিলে সংকট কেটে যাবে বলে জানান তিনি।

তানোর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (মুন্ডুমালা পৌরসভা দায়িত্বপ্রাপ্ত) রাকিবুল হাসান বলেন, এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী পটাশ সংকট দেখিয়ে বেশি দাম নিচ্ছে বলে কৃষকদের অভিযোগ রয়েছে। আমরা এসব ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান অভিযান চালানোর ব্যবস্থা নিয়েছি।

তবে সারের কোনো সংকট নেই বলে দাবি করেছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোজদার হোসেন বলেন, ‘জেলায় সারের কোনো সংকট নেই। কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যেন সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারেন সে জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা প্রতিনিয়ত মনিটরিং করছেন।’

আনন্দবাজার/শহক

সংবাদটি শেয়ার করুন