ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দুর্নীতি নারী উদ্যোক্তাদের জন্য প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে

দুর্নীতি বাংলাদেশের সংস্কৃতির একটি অংশ হয়ে উঠেছে যা সরকারের একার পক্ষে দমন করা সম্ভব নয়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সকলকে সংঘবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত আঞ্চলিক আলোচনা সভায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতের উদ্যোক্তারা এসব কথা বলেন।

ব্যবসার ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের প্রতিনিয়ত সম্মুখীন হওয়া দুর্নীতি এবং এই দুর্নীতি প্রতিরোধে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম তৈরির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট এন্টারপ্রাইজ-সিআইপিই’র সহায়তায় আয়োজিত এই আলোচনা সভাটি সম্প্রতি চট্টগ্রামের হোটেল আগ্রাবাদে অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা এতে অংশগ্রহণ করেন।

উদ্যোক্তারা নিজেদের ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদেরকে ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে বলা হয়। কিন্তু অনেক ব্যবসায়ীদের এত পরিমাণ ভ্যাট দেয়ার মতো সক্ষমতা নেই বলে কর্তৃপক্ষের সাথে লেনদেনের মাধ্যমে ‘ভালো’ সম্পর্ক বজায় রাখতে হয়। ট্রেড লাইসেন্স পাওয়ার জন্য ‘অফিস ব্যয়’- এর নামে বাড়তি ফি প্রদানের মাধ্যমে ঘুষ দেয়াকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এমনকি লাইসেন্স নবায়ন করতেও সরকার নির্ধারিত ফি- এর দ্বিগুণ ব্যয় করতে হয়। এসব ঝামেলার কারণে উদ্যোক্তারা পিছিয়ে পড়ে।

নারী উদ্যোক্তারা বলেন, দুর্নীতি নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। নারীরা ব্যবসা করতে আসা মানেই পদে পদে দুর্নীতির শিকার হওয়া। ব্যবসা শুরু এবং পরিচালনার ক্ষেত্রে এ সকল অনিয়ম ও দুর্নীতির শিকার হয়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তা কিংবা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্বারস্থ হলে সাধারণত তাদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা পান না উদ্যোক্তারা।

অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ব্যবসা শুরুর প্রথম দুই বছরে যেহেতু তেমন লাভবান হওয়া সম্ভব নয়, তাই নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য প্রথম দুই বছর করমুক্ত ঘোষণা করতে হবে। নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্সে ছাড় দিতে হবে। ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এনে একে ডিজিটালাইজ করতে হবে।

আনন্দবাজার/টি এস পি

সংবাদটি শেয়ার করুন