ঢাকা | শুক্রবার
৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ,
১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নিরাপত্তা শঙ্কায় ব্যবসায়ীরা

নিরাপত্তা শঙ্কায় ব্যবসায়ীরা

প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের রয়েছে বিশ্বের পঞ্চম দীর্ঘ সীমান্ত এলাকা। দ্বিপাক্ষিক স্থলবাণিজ্যের আকার প্রায় এক লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি। ইতোমধ্যে ভারতের স্থলভাগ ব্যবহার করে ভুটান ও নেপালও বাংলাদেশের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু করেছে। দেশের অর্থনীতি বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থলবাণিজ্যের যেমন প্রসার ঘটছে, তেমনি গুরুত্বও বাড়ছে। দেশের স্থলবাণিজ্য নিয়ে দৈনিক আনন্দবাজারের বিশেষ আয়োজনে আজ লালমনিরহাটে দেশের তৃতীয় বৃহত্তম বুড়িমারী স্থলবন্দর নিয়ে প্রতিনিধি রবিউল হাসানের পাঠানো প্রতিবেদন- নিরাপত্তা শঙ্কায় ব্যবসায়ীরা।

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় দেশের তৃতীয় বৃহত্তম বুড়িমারী স্থলবন্দর। প্রতিদিন এই স্থল বন্দর দিয়ে কোটি কোটি টাকা আমদানি রপ্তানি করছেন কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিএনএফ) ব্যবসায়ীরা। তবে করোনাকালীন অর্থনীতির মন্দায় তারা অনেকটা ক্ষতিগ্রস্ত ও গতিহীন হয়ে পড়েছিলেন। বর্তমানে সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। বন্দরে বেশ কিছু সমস্যা থাকার পরও ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এতে প্রায় তিন হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। ভারত থেকে ১৩ পণ্য আমদানিতে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হলে আরও বেশি রাজস্ব আদায় সম্ভব বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

করোনা মহামারির প্রাদুর্ভাবের মধ্যেও বুড়িমারী বন্দরে গত ছয় বছরের তুলনায় রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের কথা বলেছে কাস্টম কর্তৃপক্ষ। গত ২০২০-২১ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিল ১১১ কোটি ১১ লাখ ৩১ হাজার টাকা। প্রবৃদ্ধির পরিমাণ ৯৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে কয়েক মাসে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৪ কোটি ৯১ লাখ ৫২ হাজার টাকা। প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ। যদিও তা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কিছুটা কম। এ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এর আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় হয় ৫৬ কোটি ৭২ লাখ ২৪ হাজার টাকা, যা ছিল লক্ষ্যমাত্রার (১০৪ কোটি ৮৯ লাখ) প্রায় অর্ধেক।

স্থলবন্দরের কাস্টমস সূত্রমতে, গত অর্থবছরের মধ্যে এই বন্দরে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে চলতি বছর। সবচেয়ে কম আদায় হয় ২০১৬-১৭ অর্থবছরে। সে বছর লক্ষ্যমাত্রাও ছিল কম। ৫২ কোটির বিপরীতে আদায় হয় ৪০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। এর আগে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিল ৪৫ কোটি টাকা। কাস্টম কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছিল ২০১৭-১৮ অর্থবছরে। সেবার ৫০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আদায় হয় ৭৬ কোটি ৫৫ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিল ৭৬ কোটি ৫৫ লাখ ৭৬ হাজার টাকা, ২০১৯-২০২০-এ ছিল ৫৬ কোটি ৭২ লাখ ২৪ হাজার টাকা।

কাস্টমস কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ভারত, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে সহজতর যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে বুড়িমারী স্থলবন্দর ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। এ কারণে রাজস্ব আদায়ও বাড়ছে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতের সঙ্গে ১৩ পণ্য আমদানিতে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারসহ জটিলতা হ্রাসে সরকার উদ্যোগী হলে এ বন্দর দিয়ে ক্রমেই বাণিজ্যের সম্প্রসারণ হবে। বুড়িমারী স্থলবন্দরে দিয়ে ভারত ও ভুটান থেকে প্রচুর পরিমাণে পাথর বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। ভারতীয় পাথরের চাহিদা এখানে প্রচুর। এই পাথর ভাঙার কাজে জড়িত রয়েছেন প্রায় তিন হাজার শ্রমিক। প্রতিদিন একজন শ্রমিক ৩শত থেকে ৪শত টাকা মজুরি পান। এতে অনেক পরিবারের কর্মসংস্থান হয়েছে।

বুড়িমারীর পাথর ব্যবসায়ীরা বলছেন, খুবই সীমিতভাবে পাথরে লাভ হচ্ছে। অনেক ব্যবসায়ী পাথর ব্যবসায় মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। ভারতীয়দের সঙ্গে দিন দিন ব্যবসা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। ভারতীয় ব্যবসায়ীদের আগাম টাকা দিলেও তারা নির্ধারিত সময়ে মালামাল পাঠান না। সুযোগ বুঝে মালের দাম বৃদ্ধি করেন দেন। এতে সাধারণ পাথর ব্যবসায়ীরা বিপদে পড়ে যান। ফলে ধীরে ধীরে পাথর ব্যবসায়ী কমতে শুরু করেছে। বর্তমানে বুড়িমারী স্থলবন্দরে দিয়ে প্রচুর পরিমাণে পাথর, ভুট্টা, গম, গরুর ভুষি, ডাল চুন, কয়লাসহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। ভুট্টা প্রতি টন বিক্রি হচ্ছে ৩০ হাজার ৬শত টাকা, গম প্রতি টন ২৭ হাজার ৩শত টাকা। পাথর প্রতি সেপ্টি বিক্রি হচ্ছে ৪৭ টাকা থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত।

ওজন পরিমাপের যন্ত্র বিকল
এদিকে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে প্রায় ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ওজন পরিমাপের যন্ত্রটি বসানো হয়। শুরু থেকেই এটি বিকল হয়ে আছে। পাটগ্রাম উপজেলা মির্জারকোট গ্রামে স্থলবন্দরের মহাসড়কের পাশে পণ্যবোঝাই যানবাহনের ওজন পরিমাপের জন্য যন্ত্রটি স্থাপন করা হয়েছিল। দুবার পরীক্ষামূলকভাবে তা চালুর চেষ্টা করা হলেও যন্ত্রটি বিকল হয়ে পড়েছে। এরপর ১০ বছরেও যন্ত্রটি ঠিক করা হয়নি। ফলে যানবাহনে অতিরিক্ত পণ্য বহন করায় হুমকিতে পড়েছে স্থলবন্দর মহাসড়ক।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রমতে, স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন ১২শ থেকে ৯শ ট্রাক আসা-যাওয়া করে। তাছাড়া স্থানীয়ভাবে উত্তোলন করা নুড়িপাথর ও বালুবাহী যানবাহনও এই মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করে। এতে একদিকে নষ্ট হচ্ছে মহাসড়ক, অন্যদিকে ঝুঁকিতে পড়ছে সড়ক সেতু। ট্রাক চালকরা বলছেন, ওজন পরিমাপের যন্ত্র বিকল হওয়ার কারণে আমরাও সঠিক মালামাল পরিবহন করতে পারছি না। বাড়তি টাকা গুণতে হচ্ছে।

শিক্ষা ও চিকিৎসা
স্থলবন্দর দিয়ে চিকিৎসার নামে ভ্রমণের জন্য ভারত যাচ্ছেন মানুষ। বিশেষ করে একটু জটিল রোগ হলেই বাংলাদেশের চিকিৎসকদের প্রতি আস্থা রাখছেন না রোগী কিংবা রোগীর স্বজনরা। এমনকি গ্রাম পর্যায়ের রোগীদের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা হয়েছে। বিশেষ করে যাদের আর্থিক অবস্থা একটু স্বচ্ছল তারা দেশে চিকিৎসা করাতে মোটেও রাজি নন। এক প্রকার সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে চিকিৎসার জন্য ভারতে ছুটে যাওয়া।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিদেশগামী রোগীদের মধ্যে ৭০ শতাংশই যান ভারতে। বুড়িমারী পুলিশ ইমিগ্রেশন দিয়ে ২০১৮ সালে এক লাখ ৩২ হাজার মানুষ ভারতে যান। এর মধ্যে ৭০ শতাংশ চিকিৎসা, ২৫ শতাংশ পর্যটন এবং ৩/৫ শতাংশ শিক্ষার্থী লেখাপড়া করার জন্য ভারতে গমন করেন। পরের বছরের ১০ অক্টোবর পর্যন্ত ৯২ হাজার ৯শত ১৯ জন ভারতে গেছেন। অন্যদিকে, ভারত, নেপাল ও ভুটান থেকে ২০১৮ সালে বাংলাদেশে আসেন ৯৬ হাজার ৯ শত ৩১ জন পর্যটক। পরের বছরের ১০ অক্টোবর পর্যন্ত আসেন ৮৫ হাজার ৯শত ৮৭ জন। এর মধ্যে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যায়নরত বেশির ভাগ ছাত্র এবং এদের মধ্যে ভ্রমণকারীর সংখ্যা প্রায় ৪০ শতাংশ।

রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়া গৌরবের বিষয় নয়। তবে জীবন বাঁচাতে হবে তাই তারা যাচ্ছেন। কোনো কোনো রোগী অভিযোগ করে বলেন, দেশের চিকিৎসকরা সামান্যতেই ঔষধের বোঝা চাপিয়ে দেন। যার ফলে অনেক সময় ভুল চিকিৎসায় অল্প জটিল থেকে বিশাল বড় জটিল হয়ে পড়ে। সবমিলিয়ে চিকিৎসার জন্য তারা ভারতকেই নিরাপদ মনে করেন। এছাড়া দেশের চিকিৎসা খরচের চেয়ে ভারতে কম খরচে সুচিকিৎসা সেবা পাওয়ায় চিকিৎসার জন্য দেশের রোগীরা ভারতকে বেঁচে নিয়েছেন।

স্থলবন্দর ইয়ার্ড শেড
স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের ইয়ার্ড শেড থেকে আমদানি করা মালামাল প্রতিদিন কোনো না কোনোভাবে চুরি ও ছিনতাই হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। এতে আমদানিকারকেরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। বন্দরে পচনশীল পণ্য খালাসের জন্য একটি ইয়ার্ড শেড আছে। প্রতিদিন তিন থেকে চার শতাধিক ট্রাকের পণ্য খালাস ও বোঝাই করা হয় এই বন্দরে। ইয়ার্ড শেডে ভারত, ভুটান থেকে আনা চাল, ভুট্টা, গম ও ফল ট্রাক থেকে ট্রাকে খালাস করা হয়।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বন্দরে এখন বহিরাগতদের অবাধ বিচরণ। ভারতীয় ট্রাক থেকে পণ্য খালাস ও বাংলাদেশি ট্রাকে তা বোঝাই করার সময় বহিরাগতরা পণ্য চুরি ও ছিনতাই করেন। বেশির ভাগ চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে সন্ধ্যা থেকে গভীর রাতে। এ অবস্থায় বন্দরে নিরাপত্তায় নিয়োজিত বেসরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি ও পুরো বন্দর এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার দাবি ব্যবসায়ীদের।

স্থলবন্দরের মেসার্স এএস ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী জিল্লুর রহমান দৈনিক আনন্দবাজারকে বলেন, স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন পণ্য রাখার নির্ধারিত এলাকা থেকে পণ্য চুরি ও ছিনতাই কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ব্যবসায়ীরা এ নিয়ে চরম শঙ্কার মধ্যে আছেন। কেএস সিন্ডিকেট প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালক আসাদুজ্জামান দৈনিক আনন্দবাজারকে বলেন, এ বন্দরে প্রত্যেক ব্যবসায়ীই বিভিন্ন পরিমাণে পণ্য চুরি হচ্ছে। স্থলবন্দরে নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্য থাকলেও ব্যবসায়ীরা নিরাপদ নন। অবস্থা এমন হলে কীভাবে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ব্যবসা করবেন ব্যবসায়ীরা?

এসব বিষয়ে স্থলবন্দরের কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) রুহুল আমীন দৈনিক আনন্দবাজারকে বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে সত্য। তারা দ্রুত ব্যবস্থাও নিচ্ছেন। ছিনতাইকারীরা মূলত দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে। চারদিকে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

রেকর্ড পরিমাণ গম আমদানি
স্থলবন্দর দিয়ে রেকর্ড পরিমাণ গম আমদানি হয়েছে। দেশের বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকলেও উৎপাদন সীমিত। এ কারণেই কৃষিপণ্যটির আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। ছয় মাসে ২৬২ কোটি ৯৮ লাখ টাকায় ৯৫ হাজার ৫৬০ টন গম আমদানি হয়েছে। সূত্রমতে, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাইয়ে ৬ হাজার ৫১ টন, আগস্টে ১৫ হাজার ৩৪৫, সেপ্টেম্বরে ১৫ হাজার ৫৬২, অক্টোবরে ১৮ হাজার ২৩৪, নভেম্বরে ২০ হাজার ২৮৯ ও ডিসেম্বরে ২০ হাজার ৭৯ টন গম আমদানি হয়েছে।

লালমনিরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী খালিদ সাইফুল্লাহ সরদার দৈনিক আনন্দবাজারকে বলেন, ওজন পরিমাপক যন্ত্রটি স্থাপনের পর দুইবার চালু করার জন্য পরীক্ষা করা হয়েছিল। তবে যন্ত্রটি নষ্ট হয়ে যায়। পরে মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পাঠালেও তারা মেরামত করতে পারেনি। তাই সেটি অকেজো রয়েছে। এখানে একটি নতুন যন্ত্র বসাতে হবে। তা ছাড়া চার লেন সড়কের কাজ শুরু হলে এই যন্ত্র স্থাপন করা হবে। সেখানে অতিরিক্ত মালামাল নামানোর জায়গাও থাকবে। বুড়িমারী স্থলবন্দরের উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কর্মকর্তা অতিরিক্ত উপপরিচালক মাহফুজুল হক দৈনিক আনন্দবাজারকে বলেন, আমদানির পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে গম বাজারজাত করার জন্য ব্যবসায়ীদের ছাড়পত্র দেয়া হয়।

বুড়িমারী স্থল শুল্ক স্টাশন কাস্টমসের ডেপুটি (ডিসি) কমিশনার কেফায়েতুল্ল্যাহ মজুমদার দৈনিক আনন্দবাজারকে বলেন, গত বছরের তুলনায় বুড়িমারী স্থলবন্দর রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ রেকর্ড করা হয়েছে। স্থলবন্দরে ব্যবসায়িক পরিবেশ ভালো। প্রয়োজনীয় জনবল এবং অবকাঠামোও আছে। এ কারণে রাজস্ব আদায় বাড়ছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ভারত থেকে ভুট্টা, গম, পাথরসহ বিভিন্ন পন্য আমদানি করছেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে নতুন করে ভারত থেকে ৩১৫-৩২০ ডলারে প্রতি টন গম আমদানি হচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৯৫ হাজার ৫৬০ টন গম আমদানি হয়েছে। এসব গমের মূল্য ৩ কোটি ৯ লাখ ৩৮ হাজার ৮২৪ ডলার।

লালমনিরহাট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি ও গম আমদানিকারক শেখ আব্দুল হামিদ বাবু দৈনিক আনন্দবাজারকে বলেন, বুড়িমারী স্থলবন্দরে পাশাপাশি ব্যবসা বাণিজ্য প্রসারের জন্য লালমনিরহাট মোগলহাট স্থল বন্দর চালু করা খুবই জরুরি। অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় গম, ভুট্টা থেকে উৎপাদিত খাদ্যের ব্যবহার অনেক গুণ বেড়েছে। চাহিদার তুলনায় গম, ভুট্টা উৎপাদন কম হওয়ায় আমদানি করেই চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে।

বুড়িমারী স্থলবন্দরের আমদানি ও রপ্তানিকারক গ্রুপ সভাপতি ও পাটগ্রাম উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রুহুল আমীন বাবুল দৈনিক আনন্দবাজারকে বলেন, করোনা মহামারির পর থেকে বুড়িমারী স্থলবন্দরের সিএনএফ ব্যবসায়িরা আমদানি ও রপ্তানি করছেন। তবে ১৩টি পণ্যের আমদানির ওপর স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা না হলে এ বন্দর ব্যবহারে ব্যবসায়ীরা আগ্রহ হারাবেন। স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হলে এ বন্দরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দ্বিগুণ রাজস্ব আদায় সম্ভব। এসব পণ্যের মধ্যে হল প্লাইউড, রেজিন ও আগরবাতি।

আনন্দবাজার/শহক

সংবাদটি শেয়ার করুন