জানুয়ারি ২৯, ২০২৩

সুপারি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে কৃষকরা

উৎপাদিত সুপারি ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে লক্ষ্মীপুরে গ্রামীণ অর্থনীতি। মেঘনা উপকূলীয় এই জনপদে ৩৫০ কোটি টাকা লেনদেনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই এখানকার মানুষও সুপারি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

এছাড়া সুপারি কেনা-বেচার জমজমাট হয়ে উঠেছে লক্ষ্মীপুর সদরের রসুলগঞ্জ বাজার, ভবানীগঞ্জ, মান্দারী, দত্তপাড়া, জকসিন, রায়পুরের হায়দরগঞ্জ বাজার, সোনাপুর, দেনায়েতপুর, খাসেরহাট, মোল্লারহাট, মীরগঞ্জ, রামগঞ্জ উপজেলা শহর, কাঞ্চনপুরের বাজারগুলো।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সুপারি বাগানগুলো অপরিকল্পিতভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। যদি পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগিয়ে সুপারি বাগান তৈরি করা যায় তাহলে আরও কয়েকগুণ উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

লক্ষ্মীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, জেলার কৃষিজমির পাশে এবং বাড়ির আঙিনায় সুপারি গাছ রোপণ করে শত শত কোটি টাকার সুপারি উৎপাদিত হচ্ছে। গত বছর এ জেলায় ৬ হাজার ৭৯৫ হেক্টর জমিতে সুপারি উৎপাদন হয়েছিল।

চলতি মৌসুমে লক্ষ্মীপুরের ৫ উপজেলায় ৬ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে সুপারি উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে জেলা সদরে ১ হাজার ৯০৫ হেক্টর, রায়পুরে ৩ হাজার ৭১০ হেক্টর, রামগঞ্জে ৮৯৫ হেক্টর, রামগতিতে ৪৮ হেক্টর ও কমলনগরে ২৬৭ হেক্টর জমি রয়েছে।

লক্ষ্মীপুর পৌরসভার বাঞ্চানগর সুপারি ব্যবসায়ী মো. বাবুল জানান, সুপারির মৌসুমে বিভিন্ন বাজারে ব্যবসায়ীরা নিজেদের চাহিদা মতো সুপারি কিনে থাকেন। তবে সুপারির কোনো নির্ধারিত দাম থাকে না। ব্যবসায়ীরা বিভিন্নভাবে দাম হাকিয়ে কাঁচা সুপারি কিনে থাকেন।

পরবর্তীতে এই সুপারি ভিজিয়ে ও শুকিয়ে বিক্রি করা হয়। গত মৌসুমে প্রতিমণ শুকনো সুপারি সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৮০০ টাকা দরে পাইকারী বিক্রি হয়েছে। এতে প্রতি কেজি সুপারির মূল্য পড়েছে ১৯৫ টাকা।

আরও পড়ুনঃ  আগাম শিমে লাভবান ঝিনাইদহের কৃষকেরা

সুপারি চাষি আবদুল মতিন বলেন, এ মৌসুমে সুপারির দাম ভালো ছিল। কিন্তু গত বছর কম দামে সুপারিরবিক্রি করতে হয়েছে। সুপারি প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা না থাকায় ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে না।

লক্ষ্মীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কিশোর কুমার মজুমদার জানান, এখানকার মাটি ও আবহাওয়া সুপারি চাষের জন্য খুবই উপযোগী। আধুনিক পদ্ধতিতে সুপারি বাগান তৈরি করায় এ অঞ্চলের কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন।

তিনি বলেন, বাজার দর যাচাই করেই সুপারির মূল্য নির্ধারণ করা হয়। এ বছর ২৫০ টাকা প্রতি কেজি শুকনো সুপারির মূল্য নির্ধারণ করে সম্ভাব্য আয় ৩৫০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। তবে বেসরকারি জরিপে এ আয়ের পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।

 

আনন্দবাজার/এম.কে

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ই-পেপার
প্রথম পাতা
খবর
অর্থ-বাণিজ্য
শেয়ার বাজার
মতামত
বিশ্ব বাণিজ্য
ক্যারিয়ার
খেলার মাঠ
প্রযুক্তি বাজার
শিল্পাঞ্চল
পণ্যবাজার
সারাদেশ
শেষ পাতা