ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৩

সুইডেনে কোরআন পুড়িয়ে কট্টরপন্থিদের বিক্ষোভ!

সুইডেনে কোরআন পুড়িয়ে কট্টরপন্থিদের বিক্ষোভ!

সুইডেনে ইসলামের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল কোরআন পুড়িয়ে বিক্ষোভ করেছে উগ্র কট্টরপন্থি সমর্থকরা। রাজধানী স্টকহোমে তুরস্কের দূতাবাসের সামনে উগ্র কট্টরপন্থি রাজনীতিক রাসমুস পালুডান এই ঘটনা ঘটিয়েছে।

এ ঘটনায় তুরস্ক নিন্দা জানানোর পাশাপাশি ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা শনিবার (২১ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুরস্ক স্টকহোমে তুর্কি দূতাবাসের সামনে উগ্র ডানপন্থি সমর্থকদের বিক্ষোভে কোরআন পোড়ানোসহ কুর্দিদের পৃথক বিক্ষোভের ঘটনায় সুইডেনের নিন্দা জানিয়েছে। আঙ্কারা শনিবার জানিয়েছে, তারা সুইডেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর একটি সফর বাতিল করে দিয়েছে। মূলত মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটোতে সুইডেনের সদস্যপদ পাওয়া নিয়ে তুরস্কের আপত্তি কাটিয়ে উঠার লক্ষ্যে সুইডিশ ওই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর আঙ্কারা সফর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কারণ ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পর ইউরোপে রুশ আতঙ্ক বেড়ে যাওয়ায় সামরিক এই জোটটিতে প্রবেশের জন্য তুরস্কের সমর্থন প্রয়োজন সুইডেনের।

শনিবার রাজধানী স্টকহামে উগ্রপন্থি সুইডিশ রাজনীতিবিদ রাসমুস পালুডানকে তুরস্কের দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ করার অনুমতি দেয় সুইডেন। আর সেখানেই বিক্ষোভের নামে পবিত্র কোরআন পোড়ানোর কাজটি পরিচালনা করেন ড্যানিশ উগ্র ডানপন্থি রাজনৈতিক দল হার্ড লাইনের নেতা রাসমুস পালুডান।

প্রসঙ্গত, গত বছরের এপ্রিলে মুসলিমদের পবিত্র রমজান মাসে পালুডানের কোরআন পোড়ানোর ঘোষণা সুইডেনজুড়ে দাঙ্গার জন্ম দিয়েছিল। রাসমুস পালুডান বলেন, ‘আপনি যদি মনে করেন মত ​​প্রকাশের স্বাধীনতা থাকা উচিত নয়, তবে আপনাকে অন্য কোথাও থাকতে হবে।’

আল জাজিরা বলছে, পুলিশ দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে পালুডান একটি লাইটার দিয়ে পবিত্র গ্রন্থ আল কোরআনে আগুন ধরিয়ে দেয়। এছাড়া প্রায় এক ঘণ্টা ধরে সেখানে তিনি সুইডেনে ইসলাম এবং অভিবাসনকে আক্রমণ ও সমালোচনা করেন। তবে এই ঘটনায় শান্তিপূর্ণভাবে পাল্টা বিক্ষোভের জন্য প্রায় ১০০ জন লোক কাছাকাছি স্থানে জড়ো হয়েছিলেন।

আরও পড়ুনঃ  করোনা নিয়ে সম্পূর্ণ ভুল তথ্য দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

এসব ঘটনায় তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, ‘আমরা আমাদের পবিত্র গ্রন্থের ওপর জঘন্য হামলার সম্ভাব্য সবচেয়ে জোরালো ভাষায় নিন্দা জানাই। মত প্রকাশের স্বাধীনতার আড়ালে এই ইসলাম বিরোধী কাজের অনুমতি দেওয়া সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য। মুসলমানদের লক্ষ্যবস্তু করে পরিচালিত এই কাজ আমাদের পবিত্র মূল্যবোধের অবমাননা করে।’ এছাড়া তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগলু বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করতে সুইডিশ কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এটি একটি বর্ণবাদী কাজ, এটি মত প্রকাশের স্বাধীনতা নয়।’

উক্ত ঘটনার বিপরীতে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে সৌদি আরব, জর্ডান এবং কুয়েতসহ বেশ কয়েকটি আরব দেশও পবিত্র কোরআন পোড়ানোর নিন্দা জানিয়েছে। সৌদি আরব সংলাপ, সহনশীলতা এবং সহাবস্থানের মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়ার পক্ষে এবং ঘৃণা ও চরমপন্থাকে প্রত্যাখ্যান করছে। এছাড়া ছোট একটি দল আঙ্কারায় সুইডিশ দূতাবাসের বাইরে কোরআন পোড়ানোর প্রতিবাদে জড়ো হয়েছিল।

উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে সামরিক জোট ন্যাটোতে যোগ দিতে তুরস্কের সঙ্গে চুক্তি করে ফিনল্যান্ড-সুইডেন। ওই চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, কুর্দি সন্ত্রাসীদের কোনও প্রশয় দিতে পারবে না এই দু’টি দেশ। একইসঙ্গে ফিনল্যান্ড-সুইডেনে বসবাসরত পলাতক কুর্দি সন্ত্রাসীদের তুরস্কের হাতে তুলে দিতে হবে। তবে সুইডেন সেসব শর্ত ভঙ্গ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

আনন্দবাজার/কআ

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ই-পেপার
প্রথম পাতা
খবর
অর্থ-বাণিজ্য
শেয়ার বাজার
মতামত
বিশ্ব বাণিজ্য
ক্যারিয়ার
খেলার মাঠ
প্রযুক্তি বাজার
শিল্পাঞ্চল
পণ্যবাজার
সারাদেশ
শেষ পাতা