আগস্ট ১৯, ২০২২

শুকনো মরিচে স্বস্তি

শুকনো মরিচে স্বস্তি

কুড়িগ্রামের উলিপুরে বেশ কয়েকদিন ধরে মরিচের বাজার চড়া হওয়ায় সেঞ্চুরি করা কাঁচা মরিচ কিনতে এসে কিনছেন শুকনো মরিচ। কয়েক সপ্তাহ আগে সকালে দাম বাড়ে তো বিকালে দাম কমে। এভাবে বিক্রি হতো মরিচ। এখন সকাল বিকাল একই দাম বিরাজ করছে।

গতকাল থেকে আজ শুক্রবার পাইকারিতে দাম বেড়ে তা দাঁড়িয়েছে ২২০ টাকা থেকে ২৪০ টাকা কেজিতে। অপরদিকে গ্রামীণ বাজারগুলোতে কাঁচা মরিচ কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা। আর সাধারণ ও নিম্নবিত্ত শ্রেণীর লোকজন মরিচ কিনতে এসে কপালে ভাঁজ ফেলে কাঁচা মরিচ না নিয়ে সামান্য পরিমাণে শুকনো মরিচ নিয়ে বাসায় ফিরে যাচ্ছেন। আবার দাম কষাকষি শুরু হলে বিক্রেতা ও ক্রেতাদের মধ্যে বাকবিতন্ডা শুরু হয়ে যায়।

এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীরা বলেন, মরিচ যে সমস্ত এলাকায় উৎপন্ন হয় সেখানে হঠাৎ করে পানি উঠে যাওয়ার কারণে গাছগুলো মরে যাচ্ছে। সে কারণে কাঁচা মরিচের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এছাড়া কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন উপজেলাগুলো থেকে এখনো কাঁচা মরিচ আসা শুরু হয়নি। আসা শুরু হলে কাঁচা মরিচের এত দাম থাকবে না। বর্তমান আমদানি কম হয়ার কারণে সমস্যা হচ্ছে। এভাবে দাম বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ।

উপজেলার পৌর বাজারে কাঁচা মরিচ কিনতে আসা জাকির হোসেন বলেন, প্রতিদিন বাজারে কোনো না কোনো পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখন কাঁচা মরিচের বাজারে আগুন লেগেছে। দুই সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে ২৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজার পরিস্থিতি এমনটা হলে আমরা গরিব মানুষ কীভাবে চলব?

আরও পড়ুনঃ  একমণ পেঁয়াজে এক কেজি ইলিশ!

কাঁচা মরিচ কিনতে আসা আজাদ বলেন, আমি কাঁচা মরিচ কিনতে এসে দম হারিয়ে ফেলেছি। এত দাম। তিনি বলেন, গ্রামীণ বাজারে কাঁচা মরিচের কেজি ২৫০ টাকা দেখে আমি পৌরসভার কাঁচাবাজার আরদে পাইকারি হিসাবে কিনতে এসে দেখি এখানেও ২৪০ টাকা কেজি। এত দাম কিভাবে কাঁচা মরিচ কিনি। তার পরিবর্তে শুকনো মরিচ ৪০০ টাকা কেজি দরে ১০০ গ্রাম মরিচ ৪০ টাকা দিয়ে কিনে নিয়ে বাসায় যাচ্ছি।

উপজেলার পৌর কাঁচা বাজারের কাঁচা মরিচের আরদ ব্যাবসায়ী সাইদুল ইসলাম ও মেহেদি হাসান বলেন, আমরা রংপুর তারাগনঞ্জ, কুষ্টিয়া ও রাজশাহির মোকাম থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি করি। আর এই মোকাম গুলোতে কাঁচা মরিচের কেজি প্রতি দাম নেয় ২০০ টাকা। আমরা বাজারে নিয়ে এসে পাইকারি হিসাবে কেজি প্রতি বিক্রি করি ২২০ থেকে ২৩০ টাকা। তা আবার খুচরা বিক্রেতারা বাজারে বিক্রি করে কেজি প্রতি ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা। দোকানিরা বলেন, দেশের উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সবুজ রঙের মরিচের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু সেখানে উৎপন্ন হয় কালো রংয়ের মরিচ। যে কারণে সবুজ  মরিচের প্রচণ্ড চাহিদা থাকার কারণে এ সমস্যা তৈরি হয়েছে। অবস্থা এভাবে চললে আগামী কয়েক দিন পর ২৮০ থেকে ২৯০ টাকা কেজি দরে মরিচ কিনে খেতে হবে।

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.

ই-পেপার
প্রথম পাতা
খবর
অর্থ-বাণিজ্য
শেয়ার বাজার
মতামত
বিশ্ব বাণিজ্য
ক্যারিয়ার
খেলার মাঠ
প্রযুক্তি বাজার
শিল্পাঞ্চল
পণ্যবাজার
সারাদেশ
শেষ পাতা