ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৩

রাষ্ট্রীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার কী, কাদের দেয়া হয়

নারী অফিস সহকারীর সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশের ঘটনায় ওএসডি হওয়া জামালপুরের ডিসি আহমেদ কবীর দুই মাস আগে বিভাগীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার পান। তার এ সনদটি বাতিল করতে যাচ্ছে সরকার।

ইতিমধ্যে এর প্রক্রিয়া শুরু করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

এ পরিস্থিতিতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে রাষ্ট্রীয় এই পুরস্কার নিয়ে।

জনমনে প্রশ্ন উঠেছে- রাষ্ট্রীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার পাওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্যতা কী এবং কীভাবে এই পুরস্কারের জন্য কর্মকর্তা বাছাই করা হয়।

২০১৭ সালের ৬ এপ্রিল ‘শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান নীতিমালা-২০১৭’ সংক্রান্ত গেজেট জারি করা হয়।

‘সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়: জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল’ শিরোনামে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল ২০১২ সালে মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনুমোদন করা হয়।

শুদ্ধাচার চর্চায় এই পুরস্কার পাওয়ার ক্ষেত্রে যারা নির্বাচিত হবেন তারা হলেন-

১. মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সিনিয়র সচিব বা সচিব

২. প্রতিটি মন্ত্রণালয় বা বিভাগের গ্রেড-১ থেকে গ্রেড-১০ ভুক্ত একজন এবং গ্রেড-১১ থেকে ২০ পর্যন্ত একজনসহ মোট দুজন কর্মচারী।

৩. মন্ত্রণালয় বিভাগ বা রাষ্ট্রীয় অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের মধ্য থেকে একজন কর্মচারী।

৪. মন্ত্রণালয় বিভাগ বা রাষ্ট্রীয় অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মাঠপর্যায়ের আঞ্চলিক কার্যালয়সমূহ থেকে একজন কর্মচারী।

৫. মন্ত্রণালয় বিভাগ বা রাষ্ট্রীয় অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মাঠপর্যায়ের আঞ্চলিক কার্যালয়সমূহের গ্রেড-৩ থেকে গ্রেড-১০ ভুক্ত একজন কর্মচারী।

৬. গ্রেড-১১ থেকে ২০ পর্যন্ত একজন কর্মচারী।

৭. মাঠপর্যায়ের জেলাসমূহের মধ্য থেকে একজন কর্মচারী।

৮। মন্ত্রণালয় বিভাগ বা রাষ্ট্রীয় অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মাঠপর্যায়ের উপজেলা কার্যালয়সমূহের প্রধানদের মধ্য থেকে একজন কর্মচারী।
শুদ্ধাচার পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত ১৮টি গুণাবলি হচ্ছে- কর্মচারীর পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতা, সততার নিদর্শন স্থাপন করা, নির্ভরযোগ্যতা ও কর্তব্যনিষ্ঠা, শৃঙ্খলাবোধ, সহকর্মীদের সঙ্গে আচরণ, সেবাগ্রহীতার সঙ্গে আচরণ, প্রতিষ্ঠানের বিধিবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা, সমন্বয় ও নেতৃত্বদানের ক্ষমতা, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে পারদর্শিতা, পেশাগত স্বাস্থ্য ও পরিবেশবিষয়ক নিরাপত্তা সচেতনতা, ছুটি গ্রহণের প্রবণতা, উদ্ভাবনী চর্চার সক্ষমতা, বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি বাস্তবায়নে তৎপরতা, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার, স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশে আগ্রহ, উপস্থাপন দক্ষতা, ই-ফাইল ব্যবহারে আগ্রহ, অভিযোগ প্রতিকারে সহযোগিতা করা।

আরও পড়ুনঃ  পূর্বমাইজপাড়া সরকারি খালে অবৈধ বাঁধ

গেজেটে বলা হয়েছে, শুদ্ধাচার পুরস্কার পাওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারীকে উল্লিখিত সূচকের ১০০ নম্বরের মধ্যে অবশ্যই ৮০ নম্বর পেতে হবে। এটি না পেলে ওই কর্মচারী এ পুরস্কার পাওয়ার জন্য প্রাথমিকভাবে বিবেচিত হবেন না। আর বিবেচিত কর্মচারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া কর্মচারী শুদ্ধাচার পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হবেন।

প্রতি বছর সরকারের শুদ্ধাচার পুরস্কারপ্রাপ্ত কর্মচারীরা পুরস্কার হিসেবে একটি সার্টিফিকেট এবং এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ পাবেন।

এই গেজেট অনুযায়ী আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধানদের ক্যাটাগরিতে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বাধীন কমিটি জামালপুরের ডিসি আহমেদ কবীরকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে শুদ্ধাচার পুরস্কারের জন্য চূড়ান্তভাবে মনোনীত করে।

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ই-পেপার
প্রথম পাতা
খবর
অর্থ-বাণিজ্য
শেয়ার বাজার
মতামত
বিশ্ব বাণিজ্য
ক্যারিয়ার
খেলার মাঠ
প্রযুক্তি বাজার
শিল্পাঞ্চল
পণ্যবাজার
সারাদেশ
শেষ পাতা