ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৩

মাত্রাহীন উঠানামায় তাপমাত্রা

মাত্রাহীন উঠানামায় তাপমাত্রা
  • ঢাকায় তাপমাত্রার ব্যবধান দ্বিগুণের বেশি
  • পঞ্চগড়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬.৯ ডিগ্রি
  • তাপমাত্রা কমলেই বাড়বে শৈত্যপ্রবাহের আওতা-তীব্রতা

তাপমাত্রা ক্রমেই আরও কমার পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। একদিনের মধ্যে তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে যেতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। তাপমাত্রা কমে গেলে শৈত্যপ্রবাহের আওতা ও তীব্রতা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। গত সোমবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। গতকাল মঙ্গলবার সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হয়েছে ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিকে তীব্র শীতের পর ঢাকায় উষ্ণতা বেড়েছে। আগের দিনের মতো গতকাল সকাল থেকে ঢাকার আকাশে ঝলমলে রোদ, নেই কুয়াশা, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে বেড়ে হয়েছে ১৫ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সোমবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হামিদ মিয়া সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাস তুলে ধরে জানান, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং দেশের অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। পাবনা, নওগাঁ ও চুয়াডাঙ্গা জেলাসহ রংপুর বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে বলেও জানান তিনি। যদিও সোমবার পুরো রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বইছিল।
সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে জানিয়ে হামিদ মিয়া বলেন, আগামী তিনদিনে রাতের তাপমাত্রা আরও হ্রাস পেতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  করোনায় ফাঁকা রাজধানী

পঞ্চগড়ের তাপমাত্রা ৬.৯ ডিগ্রি: সকালে সূর্যের দেখা মিললেও এখনও কনকনে শীতে কাঁপছে পঞ্চগড়। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টায় এ জেলায় তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা গতকাল থেকে কমেছে শূন্য দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সোমবার তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দুদিন ধরে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের দাপটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উত্তরের এ জনপদে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, দুদিন ধরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হওয়ায় এ জেলায় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বইছে। গত শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত তাপমাত্রা ৯.৬, ৯.৫ ও ৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছিল। সোমবার তাপমাত্রা কমে ৭ ডিগ্রিতে পৌঁছেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে তাপমাত্রা শূন্য দশমিক ১ ডিগ্রি কমে ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে। সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হওয়ার বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে জানিয়েছেন জেলার প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল শাহ। এর আগে, এই জেলায় ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে স্মরণকালের সবচেয়ে কম ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল।

পঞ্চগড়ে সকাল থেকেই দেখা মিলেছে সূর্যের। তবে অনুভূত হচ্ছে প্রচন্ড শীত। সুর্যের মুখ দেখা গেলেও মিলছে না রোদের উষ্ণতা। শীত দুর্ভোগে পড়েছে নানান শ্রমজীবী-কর্মজীবী গরিব অসহায় মানুষ। পাথর শ্রমিক, চা শ্রমিক, দিনমজুর থেকে শুরু করে ছোটখাটো যানবাহন ভ্যান চালক মানুষগুলো পড়েছেন বিপাকে। তীব্র শীতের কারণে কাজে যেতে পারছেন না অনেকে। তবে জীবিকার তাগিদে কাউকে নদীতে পাথর তুলতে, কাউকে চা-বাগানে আবার কাউকে দিনমজুরের কাজ করতে যেতে দেখা গেছে। শীতের দুর্ভোগ বেড়েছে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে। এসব মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য সরকার যে ত্রাণ দিয়েছে তা একেবারে অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

আরও পড়ুনঃ  কর্মহীন সময়ে জেলেরা পাবেন সহায়তা

চা শ্রমিক জামাল, জাহেরুল ও নাসির জানান, সকালে বরফের মতো ঠান্ডা। চা বাগানে কাজ করতে গেলে হাত-পা অবশ হয়ে আসে। কিন্তু জীবিকার তাগিদে কাজে বের হতে হয় আমাদের। পাথর শ্রমিক ইমরান, আরশাদ আলী ও আবু তাহের জানান, ঠান্ডায় নদীর পানি বরফের মতো মনে হয়। তারপরেও আমাদের পাথরই জীবিকা। তাই কাজে বেরিয়েছি। কয়েকদিন ধরে নদীর ঠান্ডা পানিতে কাজ করে জ্বর-সর্দিতে ভুগলাম। ক্ষুধার্ত পেটতো ঠান্ডা বুঝে না। কিন্তু পরিবারের কথা চিন্তা করে সকালেই পাথর তোলার সরঞ্জাম নিয়ে বেড়িয়ে পড়েছি। একই কথা জানান কয়েকজন দিনমজুর ও নারী পাথর শ্রমিকরা।

নারী পাথর শ্রমিকরা জানান, তীব্র শীতের কারণে তাদেরও কাজে যেতে কষ্ট হচ্ছে। ঘর সংসার সামলে জীবিকার তাগিদে কাজে যেতে হচ্ছে। শীতের কারণে কাজে যেতে দেরি হলে মহাজনরা অনেক সময় কাজে নিতে চান না। বীজতলা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরাও। তারা জানান, ঘন কুয়াশা আর কনকনে শীতের কারণে ক্ষেতখামারে কাজ করতে পারছেন না। দেরিতে মাঠে যেতে হচ্ছে। এখন বোরো মৌসুম। ভুট্টা, মরিচ, গমসহ বিভিন্ন ফসলের বীজ বপন করতে হচ্ছে। শীতের কারণে দেরি করে জমিতে গিয়ে কাজ এগুচ্ছে না বলেও জানান তারা।

শীতের কারণে পড়ালেখা স্থবির হয়ে পড়েছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদেরও। সকালে স্কুল শিক্ষার্থী তানিয়া, কাজল ও নাইমা খাতুন জানায়, কনকনে শীত। রাতেও শীতের কারণে পড়তে পারি না। রাতের তাপমাত্রা অনেক কমে যায়। সকালে কুয়াশা আর বাতাসের কারণে প্রাইভেট পড়তে ও স্কুলে যেতে কষ্ট হচ্ছে। এদিকে শীতে প্রকোপে বেড়েছে নানান শীতজনিত রোগ। জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডাজনিত রোগ নিয়ে হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হচ্ছেন রোগীরা। উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। এদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু।

আরও পড়ুনঃ  প্রবৃদ্ধিতে কালো মেঘ

চিকিৎসকরা বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে রোগীর চাপ বেড়েছে। এমনিতে শীত মৌসুমে আবহাওয়া শুষ্ক থাকায় বাতাসে জীবাণুর পরিমাণ বেড়ে যায়। শীতজনিত রোগ হিসেবে সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট বেশি হয়ে থাকে। আর শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠরা শীতজনিত রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। তাই এ সময়টাতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে পারলে কিছুটা হলেও সুরক্ষা মিলবে।

আনন্দবাজার/শহক

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ই-পেপার
প্রথম পাতা
খবর
অর্থ-বাণিজ্য
শেয়ার বাজার
মতামত
বিশ্ব বাণিজ্য
ক্যারিয়ার
খেলার মাঠ
প্রযুক্তি বাজার
শিল্পাঞ্চল
পণ্যবাজার
সারাদেশ
শেষ পাতা