জানুয়ারি ২৯, ২০২৩

বেকার যুবক এখন কোটিপটি

সময়ের সঙ্গে জীবন, জীবনের সঙ্গে কর্ম অধ্যাবসায়- একই বিনি সুতার মালা গাঁথা। মানুষ জীবনকে সাজাতে চায়। চায় সফল হতে। সুতরাং কোন কাজে সফলতা অর্জন করতে হলে ধৈর্য্য ও সহিংসতার মাধ্যমে নিরবিচ্ছিন্ন চেষ্টা করার নামই অধ্যাবসায়।

মেধা, শ্রম আর অধ্যাবসায় যে একটি মানুষকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দেয় তার বাস্তব উদাহরণ বাগেরহাট সদর উপজেলার এস এম আকরাম। মাত্র ১০ বছর আগেও যে যুবকটি ছিলেন বেকার, হতাশাগ্রস্ত; আজ তিনি কোটিপতি।

আধুনিক পদ্ধতিতে হাঁস-মুরগি পালন আর মাছ চাষ করে দারিদ্র্যকে জয় করার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখেছেন ৩৮ বছরের এ যুবক। বেকারত্বের গ্লানিকে দুমড়েমুচড়ে জীবন সংগ্রামে কীভাবে জয়ী হওয়া যায়, তা তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন।

পরিবারের অভাব অনটনের কারণে এসএসসির বেশি লেখাপড়া করতে পারেনি আকরাম। তারপরও নিজের লক্ষ্য, ইচ্ছা শক্তি আর শ্রম তাকে এনে দিয়েছে সফলতা। প্রথম দিকে হোঁচট খেলেও থেমে যাননি। বুকে ছিল এগিয়ে যাবার প্রত্যয়।

আকরাম হোসেন ১৯৯৯ সালে মাত্র ৪০ হাজার টাকা নিয়ে মুরগি পালন শুরু করেন। অদক্ষতার কারণে ব্যাপক লোকসানও হয়েছিল। কিন্তু সেই হতাশা একটুও গ্রাস করতে পারেনি তাকে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে প্রশিক্ষণ নেয়ার পর ২০০৬ সালে আবার পুরোদমে শুরু করেন স্বপ্নযাত্রা।

আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি আকরামকে। বাড়তে থাকে একের পর এক প্রকল্প। বাগদা ও গলদা চিংড়ির পোনা উৎপাদন, সবজি চাষ, মাছ চাষ, বাঁশ চাষ, বায়োগ্যাস উৎপাদনসহ নানা প্রকল্প হাতে নেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  মুরগি পালন করে সফল উদ্যোক্তা জয়

আকরামের খামারে এখন কাজ করছেন ২০ জনেরও বেশি শ্রমিক। মাত্র দু’বিঘা জমি লিজ নিয়ে মুরগির খামার শুরু করলেও বর্তমানে তার সমন্বিত প্রকল্পে নিজস্ব জমির পরিমাণ ৬ একরে দাঁড়িয়েছে।

তরুণ উদ্যোক্তা এস এম আকরাম নিজের সাফল্য নিয়ে বললেন, ‘বাগেরহাট যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ২০০৬ সালে আধুনিক প্রযুক্তিতে মুরগির খামার করি। এতে বেশ লাভবান হই। ২০১২ সালে বাগেরহাট চিংড়ি গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে গলদা হ্যাচারি ও বাগদা নার্সারি তৈরি করি। বর্তমানে আমার খামারের বাৎসরিক আয় প্রায় ৮০ লাখেরও বেশি।’

স্থানীয় যুবকদের কাছেও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছেন আকরাম। কেবল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই সফলতার চাবিকাঠি নয়, শ্রম আর মেধাকে কাজে লাগাতে পারলেই আসে সফলতা, এমন বিশ্বাস থেকেই আজ কোটিপটি আকরাম। জীবন সংগ্রামে পিছিয়ে পড়া বেকার হতাশাগ্রস্তদের জন্য তিনিই হতে পারেন অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

‘মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পতন’- অধ্যবসায় সম্পর্কিত একটি পরম সত্য প্রবাদ।

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ই-পেপার
প্রথম পাতা
খবর
অর্থ-বাণিজ্য
শেয়ার বাজার
মতামত
বিশ্ব বাণিজ্য
ক্যারিয়ার
খেলার মাঠ
প্রযুক্তি বাজার
শিল্পাঞ্চল
পণ্যবাজার
সারাদেশ
শেষ পাতা