নভেম্বর ২৮, ২০২১

বিনোদনের দুয়ার খুলবে বঙ্গবন্ধু শিশু পার্ক

ক‘দিন আগেও দেলদুয়ার উপজেলার শিশুদের জন্য তেমন কোন বিনোদন কেন্দ্র ছিল না। একটু বিনোদনের খোঁজে ছুটির দিনগুলোতে অভিভাবকরা ঘরবন্দি শিশুদের নিয়ে যেতেন শহরের কোন বিনোদন কেন্দ্রে। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুরা বিনোদন থেকে সম্পূর্ণভাবেই বঞ্চিত ছিল। অনেক প্রত্যাশার পর এবার দেলদুয়ারে নির্মাণ হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু শিশু পার্ক’।

প্রায় পৌনে দুই একর জায়গা ঘিরে উপজেলা পরিষদের সামনেই তৈরি হচ্ছে পার্কটি। দ্রুত গতিতে শেষ হয়েছে পার্কটির অবকাঠামো নির্মাণ কাজ। পার্কের খেলনাগুলো সাজানো হয়েছে। প্রধান সড়কের সাথে পার্কটি নির্মাণ হওয়ায় যাতায়াত সুবিধা পাবে সব দিকের মানুষ। উপজেলার সাধারণ মানুষের ধারণা শিশুদের এবার স্বস্তি মিলবে দৃষ্টিনন্দন এ শিশু পার্কে। টাঙ্গাইলের এসপি পার্ক বা ডিসি লেকের পরিবর্তে ঘর থেকে দু-পা বেড়িয়ে এ অঞ্চলের শিশুরা পাবে বিনোদন সুবিধা। ইনডোর বিনোদন ছেড়ে আউটডোরে অবসর বিনোদন পাবে এ উপজেলার বাসিন্দাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার শিশুরা এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

২০২০ সালের ৪ জুলাই টাঙ্গাইলের সাবেক জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম পার্কটির কাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন। পার্কটির কাজ শেষ। এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায় বঙ্গবন্ধু শিশুপার্কটি।

শিশু পার্কটি পরিকল্পনায় অনেকের অবদান রয়েছে। তবে সবশেষে দেলদুয়ার উপজেলার বর্তমান নির্বাহি অফিসার (ইউএনও) মাহমুদা আক্তার পার্কটি বাস্তবায়নে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন। এর আগে মাটির মায়া খ্যাত এসিল্যান্ড দেলদুয়ার উপজেলার সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহাদত কবীর উপজেলাতে নানা উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড শুরু করেন। শিশুদের জন্য পরিকল্পনা করেন একটি শিশু পার্কের। এরই ধারাবাহিকতায় জায়গা নির্ধারণ ও বঙ্গবন্ধু শিশু পার্ক নামকরণের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সে অনুযায়ী ঢাকা থেকে স্থপতি অপুকে এনে একটি সুন্দর ডিজাইন করেন। আকস্মিকভাবে বদলি হওয়ায় আটকে যায় শিশু পার্কটির বাস্তবায়ন। পরবর্তীতে ইউএনও সাবিনা ইয়াসমিন (সুমী) ও নাদিরা আখতার পার্কটি বাস্তবায়নে তেমন কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেননি। পার্কটিকে এবার বাস্তবে রূপ দিলেন বর্তমান ইউএনও মাহমুদা আক্তার। তবে পার্কটি বাস্তবায়নে টাঙ্গাইল-৬ (দেলদুয়ার-নাগরপুর) আসনের সাংসদ আহসানুল ইসলাম টিটু সার্বিক সহযোগিতা করছেন।

শিশু পার্কটি দৃষ্টিনন্দন করতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন ঢাকা ইন্টেরিয়রের প্রতিষ্ঠাতা স্থপতি রুস্তম আলী অপু (স্থপতি অপু)। তার করা ডিজাইনে পার্কটির সৌন্দর্য অনেকাংশে বেড়েছে। অপু উপজেলার পাথরাইল ইউনিয়নের দেওজান গ্রামের বাসিন্দা। বঙ্গবন্ধুর নামে পার্কটি হওয়াতে অনেক সময় নিয়ে ডিজাইনটি করেছেন স্থপতি। পার্কের গেটটির সৌন্দর্য আর প্রবেশ পথটি পার্কটিকে আরও দৃষ্টিনন্দন করেছে। তিনদিকের লেক পার্কটির সৌন্দর্যকে আরেক ধাপ বাড়িয়েছে। ভেতরের চলার পথ বেঁয়ে প্রতিটি ইভেন্টের কাছে যাওয়া আরও সহজ করেছে।

স্থপতি অপু জানান, এটা আমার নিজের এলাকা। এলাকা হিসেবে সাবেক ইউএনও শাহাদত কবীরের সাথে বিষয়টি নিয়ে আমার কথা হয়েছিল। পরিকল্পনা হয়েছিল কিভাবে পার্কটির সৌন্দর্য বাড়ানো যায়। সেই সূত্র ধরে বর্তমান ইউএনও সাথে কাজটি করার সুযোগ হয়। অনেক সময় নিয়ে কাজটি ফুঁটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি। স্থপতি আরও বলেন, ইউএনও কম খরচের ডিজাইন চেয়েছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর নামে পার্কটির নামকরণ হওয়ায় বিনা পারিশ্রমিকে ডিজাইনটি করে দিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর নামের পার্কটিতে বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করতে পেরেও আমি স্বাচ্ছন্দবোধ করছি।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) ইমরান খান বলেন, নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে আমি সর্বক্ষণ পার্কটি নিয়ে কাজ করছি। জায়গাটি উপজেলা পরিষদের (সরকারি) ছিল। এ জায়গার সুষ্ঠু ব্যবহার করে একটি উপযুক্ত পার্ক নির্মাণ করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা আক্তার বলেন, দেলদুয়ার উপজেলাতে তেমন কোন বিনোদন কেন্দ্র ছিল না। প্রয়োজনবোধ থেকেই পার্কটি নির্মাণ করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই পার্কটির উদ্বোধন করা হবে।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান মারুফ বলেন, উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নির্মিত পার্কটি শিশুদের বিনোদনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। এখন থেকে এ অঞ্চলের শিশুদেরকে জেলা শহরে যেতে হবে না। ঘর থেকে বের হয়েই বিনোদনের সুযোগ পাবে শিশুরা। এছাড়া শিশুদের পাশাপাশি বড়রাও অবসর সময় কাটাতে পারবে।

আনন্দবাজার/এম.আর

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আজকের পত্রিকা
ই-পেপার
শেয়ার বাজার
পন্য বাজার