ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৩

বাড়ছে টিআইএন কমছে রিটার্ন

বাড়ছে-টিআইএন-কমছে-রিটার্ন
  • দুই-তৃতীয়াংশ রিটার্নই জমা পড়েনি
  • সাত বছরে টিআইএন বৃদ্ধি ২৮৬ ভাগ, রিটার্ন ১৩৭

দেশে বিগত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে নিবন্ধিত করদাতার সংখ্যা ছিল সাড়ে ১৬ লাখ। এর বিপরীতে ওই বছর রিটার্ন জমা পড়ে প্রায় ১১ লাখ। সবশেষ ২০২১-২২ অর্থবছরে টিআইএনধারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৬৪ লাখ। এর বিপরীতে রিটার্ন জমা পড়েছে ২৫ লাখ ৯১ হাজার। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৭ বছরে দেশে টিআইএন-ধারীর সংখ্যা বেড়েছে ২৮৬ শতাংশ। একই সময়ে রিটার্ন জমা দেয়ার সংখ্যা বেড়েছে ১৩৭ শতাংশ। সে হিসাবে দুই-তৃতীয়াংশ টিআইএনধারীই রিটার্ন জমা দেননি। মূলত, দেশে নিবন্ধিত করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর টিআইএন বাড়লেও সে অনুযায়ী বাড়ছে না রিটার্ন জমার সংখ্যা।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, ৭ বছরে সংখ্যাগত দিক থেকে টিআইএন-ধারীর সংখ্যা বেড়েছে ৪৭ লাখ ২২ হাজার। বর্তমানে টিআইএন-ধারীর সংখ্যা ৮০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। বৃদ্ধির এই হার ২৮৬ শতাংশ। একই সময়ে রিটার্ন জমা দেয়া বেড়েছে ১০ লাখ ৯৩ হাজার বা ১৩৭ শতাংশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৭ বছরে টিআইএন-ধারীর সংখ্যা বেড়েছে ২৮৬ শতাংশ। একই সময়ে রিটার্ন জমা দেয়ার সংখ্যা বেড়েছে ১৩৭ শতাংশ। অর্থাৎ দুই-তৃতীয়াংশ রিটার্নই জমা পড়েনি।

এনবিআরের সদস্য (করনীতি) ‍ড. সামস উদ্দিন আহমেদের তৈরি করা প্রতিবেদনটি জাতীয় আয়কর দিবসে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, আইনে আয় থাকুক আর না থাকুক টিআইএন থাকলেই রিটার্ন জমা দেয়া বাধ্যতামূলক করা হলেও প্রত্যাশা অনুযায়ী রিটার্ন জমা পড়ছে না।

আরও পড়ুনঃ  ব্যাংকিং খাতে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণের পাহাড়

সূত্র বলেছে, টিআইএন থাকলে রিটার্ন জমা দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে। তার পর থেকে রিটার্ন জমার সংখ্যা বাড়ছে। তবে এই সংখ্যা এখনও সন্তোষজনক নয়। চলতি বছরে ৩৫ লাখ রিটার্ন জমা পড়বে বলে আশা করছে এনবিআর। আগামী দুই বছরের মধ্যে এই সংখ্যা ৫০ লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

কর-নেট সম্প্রসারণে চলতি বাজেটে নানা ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে যেসব ক্ষেত্রে টিআইএন গ্রহণ বাধ্যতামূলক রয়েছে সেসব ক্ষেত্রসহ ৪০টি খাতে সেবা গ্রহণের সময় রিটার্ন জমার সঙ্গে প্রমাণপত্র দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে রিটার্ন জমার সংখ্যা এবার ৩৫ লাখ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৯০ ভাগ রিটার্ন জমা পড়েছে ব্যক্তিশ্রেণি করদাতা খাতে। মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোম্পানি রিটার্ন জমা দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, নিবন্ধিত করদাতার মধ্যে ৬৭ শতাংশ ব্যক্তিকরদাতা, ২৯ শতাংশ বেতনভোগী, ৩ শতাংশ কোম্পানি ও এক শতাংশ ফার্ম।

বর্তমানে আয়করের অংশ এনবিআর সংগৃহীত মোট রাজস্বের ৩৪ শতাংশ এবং জিডিপিতে আয়করের অবদান মাত্র আড়াই শতাংশ। বাংলাদেশকে উচ্চ আয় এবং উন্নত দেশের কাতারে যেতে ২০৩১ সালে কর-জিডিপি অনুপাত ১৭ শতাংশ এবং ২০৪১ সালে ২১ শতাংশে উন্নীত করার কথা উল্লেখ করা হয় এনবিআরের প্রতিবেদনে। এই লক্ষ্য অর্জন করতে হলে মোট রাজস্বে আয়করের অংশ কমপক্ষে ৭০ শতাংশে উন্নীত করতে হবে।

আনন্দবাজার/শহক

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ই-পেপার
প্রথম পাতা
খবর
অর্থ-বাণিজ্য
শেয়ার বাজার
মতামত
বিশ্ব বাণিজ্য
ক্যারিয়ার
খেলার মাঠ
প্রযুক্তি বাজার
শিল্পাঞ্চল
পণ্যবাজার
সারাদেশ
শেষ পাতা