বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ব্যস্ত সময় পার করছে চরাঞ্চলের চাষিরা

বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ব্যস্ত সময় পার করছে চরাঞ্চলের চাষিরা
বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ব্যস্ত সময় পার করছে চরাঞ্চলের চাষিরা

লালমনিরহাটে তিস্তা ও ধরলা নদী বেষ্টিত প্রায় ৬৮টি চরাঞ্চল রয়েছে। নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ায় নদীর বুকে জেগে ওঠা এসব বালু চরে চাষাবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক পরিবারের সদস্যরা। গত বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিবারের সব সদস্য একযোগে কৃষি কাজে মাঠে নেমে পড়েন।

সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, গত বন্যায় আমন ধানের ক্ষেত বন্যা আর ভারী বৃষ্টিতে নষ্ট হয়েছে। অনেক কৃষকের গোলা শুন্য হয়ে পড়েছে। খাদ্যের যোগান ও সংসারের খরচ মেটাতে তাই বালুময় জমিতে ফসল ফলানোর সংগ্রামে নেমে পড়েছেন চরবাসী। চরাঞ্চলের এসব বালু জমিতে সেচ দিয়ে আলু, ভুট্টা, বাদাম, মিষ্টি কুমড়া, তরমুজ, তামাক, মরিচ, রসুন ও পেঁয়াজসহ নানান জাতের সবজি চাষাবাদ করছেন তারা। তবে সেচ ব্যবস্থায় চরাঞ্চলের চাষাবাদে সব থেকে বড় সমস্যা। বালু জমি হওয়ায় সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন ফসলের ক্ষেতে সেচ দিতে হয় চাষিদের। তার ওপর প্রত্যেক চাষির সেচ পাম্প নেই। ফলে ভাড়ায় চালিত শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে পানি পলিথিনের বিশেষ পাইপ দিয়ে প্রতি ঘণ্টা ১০০ টাকা দরে ক্রয় করতে হয় তাদের। যা ব্যয় বহুল ও পরিশ্রমের। এভাবেই কঠোর শ্রম আর অর্থ ব্যয় করে শুস্ক মৌসুমের এ চাষাবাদে অর্জিত আয়ে বন্যাকালীনসহ বাকী সময় চলে চরবাসীর প্রতিটি পরিবারের সংসার।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গেল বন্যায় লালমনিরহাট জেলায় ১৯০ হেক্টর আমন বীজতলা, ১৭১ হেক্টর রোপা আমন, ১৬ হেক্টর আউশ ও ১০ হেক্টর সবজি পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে যায়। এতে চরাঞ্চলের কৃষকরা আর্থিক ভাবে ক্ষতির সম্মুখিন হন। তাই লালমনিরহাটের পাটগ্রাম, হাতিবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারীর উপজেলায় তিস্তার চরে জেগে ওঠা ১৭ হাজার ৭৯ হেক্টর জমির মধ্যে ১১ হাজার ৯৪৮ হেক্টর জমিতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ধরনের ফসলসহ সবজি চাষাবাদ শুরু করেছেন চরাঞ্চলবাসী।

চরাঞ্চলের কৃষকরা জানান, এক সময় চরাঞ্চলের জমিতে শুধু ধান, গম আর ভুট্টা চাষ হতো। কিন্তু এখন সেই জমিতে গড়ে তোলা হচ্ছে, পেয়ারা বাগান, কলা বাগানসহ বিভিন্ন রকম সবজি চাষ। বিশেষ করে শীত মৌসুমে আলু, বেগুন, টমেটো, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, শিম, করলা, পুঁইশাক ও লালশাকসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি। চাষ হচ্ছে পিয়াজ ও রসুনও। যা স্থানীয় চাহিদা প‚রণের পাশাপাশি বাজারজাত হচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

কালিগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল হক জানান, চরের সবজি খুব সুস্বাদু। চরা লের সবজি আর বাড়ীর পাশেপাশের সবজির স্বাদের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ। আর চরাঞ্চলের সবজির স্বাদ ভালো হওয়ার কারণ এখানে জমিতে সার-কীটনাশকের প্রয়োজন হয় না। শুধু পানি পেলেই চরে খুব ভালো সবজি উৎপাদন হয়। কিন্তু এত ভালো সবজি উৎপাদন করেও চাষিরা ভালো মূল্য পান না। তবে নদীপাড় থেকে চরের গ্রাম পর্যন্ত যদি পাকা রাস্তা নির্মাণ করা যায় তাহলে চাষিদের কষ্ট অনেক কমে যাবে। চাষিরা অন্তত সহজে নদীপাড় পর্যন্ত তাদের ফসল নির্বিঘ্নে নিয়ে যেতে পারবেন শহরের হাট-বাজারগুলোতে।

লালমনিহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক শামীম আশরাফ জানান, চরের মাটিতে যে কোন ফসলের আবাদ অত্যন্ত ভালো হয়ে থাকে। প্রতিবছর বন্যায় জমি তলিয়ে যাওয়ার পর নতুন করে পলি জমার কারণে চাষাবাদ ভালো হয়। এ বছর আশা করা যাচ্ছে কৃষকরা এবার ভালো দাম পাবেন।

আনন্দবাজার/শাহী/সমাপ্ত

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *