আগস্ট ১৯, ২০২২

পুঁজিবাজার উত্থানে স্বস্তিতে বিনিয়োগকারী

পুঁজিবাজার উত্থানে স্বস্তিতে বিনিয়োগকারী
  • লেনদেন ১২শ কোটির কাছাকাছি
  • সব সূচকের উত্থান  
  • লেনদেন সেরা বেক্সিমকো

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সব ধরনের সূচক উত্থান হয়েছে। এদিন ডিএসইর লেনদেন ১২শ কোটি টাকার কাছাকাছিতে অবস্থান করেছে।

এদিকে, চলতি সপ্তাহের শুরুর দিন বা রবিবার পুঁজিবাজারে বড় উত্থান হয়েছিল। ওইদিন ক্রেতা বহুগুনে বেড়েছিল। রবিবারের মতো গত সোমবারে উত্থান ছিল। ওইদিনও ক্রেতার চাপ বেশি ছিল। গত মঙ্গলবারে ও বুধবারেও উত্থান ছিল। উত্থান ধারা গতকাল বৃহস্পতিবারেও অব্যাহত ছিল। বিভিন্ন মহলের শত চেষ্টায় পুঁজিবাজারে এ ধরনের উত্থানে স্বস্তিতে রয়েছে বিনিয়োগকারীরা বলে জানান মতিঝিলের বিভিন্ন সিকিউরিটিজ হাউজ কর্মকর্তারা।

তারা বলেন, গেল সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বা ২৮ জুলাই (বৃহস্পতিবার) ফ্লোর প্রাইস নির্ধারণের পর থেকেই পুঁজিবাজার উত্থান। এনিয়ে টানা পাঁচ কার্যদিবস পুঁজিবাজারের সূচক বাড়ে। এসময় বেশির ভাগ দিন লেনদেনসহ অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর বাড়ে । এর সঙ্গে নতুন যোগ হলো গত মঙ্গলবারের পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ হবে ক্রয়মূল্যের সিদ্ধান্ত। খবরটির পর লেনদেন হাজার কোটি টাকার ওপরে হচ্ছে। সব মিলিয়ে উত্থানে ফিরেছে পুঁজিবাজার।

স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা যায়, গত সপ্তাহের শেষ দুই কার্যদিবস (বুধবার ও বৃহস্পতিবার) বড় পতনের পর পাঁচ কার্যদিবস ধরে (রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার) উত্থানে পুঁজিবাজার। এদিন (বৃহস্পতিবার) ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ১৯০ কোটি ২৬ লাখ টাকার শেয়ার। আগের কার্যদিবস বুধবার লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ১৯৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা। গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৮১টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে ১২৯টি বা ৩৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ, কমেছে ১৯৯টি বা ৫২ দশমিক ২৩ এবং পরিবর্তন হয়নি ৫৩টির। এদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১২ দশমিক ১৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩১২ দশমিক ২৫ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ৬ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট এবং ডিএসইএস সূচক ৪ দশমিক ৬৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২ হাজার ২৬৫ দশমিক ২০ পয়েন্ট এবং ১ হাজার ৩৭৫ দশমিক ১৯ পয়েন্টে।

আরও পড়ুনঃ  অবশেষে আসলো করোনার 'ওষুধ'

এদিন ডিএসইতে বেক্সিমকোর শেয়ার কেনাবেচায় কদর সবচেয়ে বেশি ছিল। ফলে লেনদেন শীর্ষে কোম্পানিটির শেয়ার স্থান পায়। এদিন বেক্সিমকো ১০০ কোটি টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। লেনদেনের শীর্ষ অবস্থানে থাকা এদিন অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে অলিম্পিক ইন্ডাষ্ট্রিজ ৫৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, মালেক স্পিনিং ৪৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, ম্যাকসন স্পিনিং ৩০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, সোনালি পেপার ২৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা, একমি পেস্টিসাইড ২৮ কোটি ২৭ লাখ টাকা, বেক্সিমকো ফার্মা ১৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং ১৯ কোটি ১৫ লাখ টাকা এবং আইপিডিসি ফাইন্যান্স ১৮ কোটি ১৮ লাখ টাকার কেনাবেচা হয়েছে।

অপরদিক সিএসইতে গতকাল বৃহস্পতিবার লেনদেন হয়েছে ২১ কোটি ৩০ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবস বুধবার লেনদেন হয়েছিল ২১ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। এদিন সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৯৬টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ১১৭টি বা ৩৯ দশমিক ৫৩ শতাংশ, কমেছে ১২২টি বা ৪১ দশমিক ২২ শতাংশ এবং পরিবর্তন হয়নি ৫৭টির। এদিন সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ৫৭ দশমিক ৭৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৫৪০ দশমিক ৯৩ পয়েন্টে।

এছাড়া সিএসই-৫০ সূচক ৪ দশমিক ৬২ পয়েন্ট, সিএসই-৩০ সূচক ৮৩ দশমিক ১০ পয়েন্ট, সিএসসিএক্স সূচক ৩৫ দশমিক ৯৬ পয়েন্ট এবং সিএসআই সূচক ৬ দশমিক ৪৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৩৬০ দশমিক ৯৬ পয়েন্টে, ১৩ হাজার ৫২৪ দশমিক ৯০ পয়েন্টে, ১১ হাজার ১০৯ দশমিক ৬৭ পয়েন্ট এবং ১ হাজার ১৬৯ দশমিক ৩৭ পয়েন্টে।

আরও পড়ুনঃ  চলনবিলে দুলছে চাষির স্বপ্ন

এদিন সিএসইতে বেক্সিমকোর শেয়ার কেনাবেচায় কদর সবচেয়ে বেশি ছিল। ফলে লেনদেন শীর্ষে কোম্পানিটির শেয়ার স্থান পায়। এদিন বেক্সিমকো ১ কোটি ১৩ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। লেনদেনের শীর্ষ অবস্থানে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে কেডিএস এক্সেসরিজ ৮৩ লাখ টাকা, ন্যাশনাল ব্যাংক ৮৩ লাখ টাকা, একমি পেস্টিসাইড ৭৯ লাখ টাকা, সিম টেক্সটাইল ৭২ লাখ টাকা, ম্যাকসন স্পিনিং ৬৬ লাখ টাকা, ফাস্ট ফাইন্যান্স ৬৩ লাখ টাকা, মালেক স্পিনিং ৫১ লাখ টাকা, রবি ৫১ লাখ টাকা এবং কুইন সাউর্থ ৩৭ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিভিন্ন সমস্যায় ঈদের (ঈদুল আযহা) পর থেকেই পুঁজিবাজার নিম্নমুখী ছিল। ঈদের পরে টানা ৯ কার্যদিবস ধরে পুঁজিবাজার পতন। সেই পতন হঠাৎ করেই দুই কার্যদিবস সামান্য উত্থানে ফিরেছিল। সেই উত্থান ধরে রাখা যায়নি। ফের নেমে আসলো পুঁজিবাজারে পতন। দীর্ঘ পতন পর হঠাৎ উত্থানে আসায় শান্তি পেয়েছিল বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু গেল সপ্তাহে শেষ দুই কার্যদিবসে (বুধবার ও বৃহস্পতিবার) বড় ধরনের পতনে তাদের সেই শান্তিতে বড় ধরনের ছেদ পড়েছিল। এ ধরনের পতন বিষয়টি চরমভাবে ভাবিয়ে তুলেছিল বিএসইসিকে।

ফলে গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবারে (২৮ জুলাই) পতন থেকে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের বাঁচাতে শেয়ার দর পতনের  ফ্লোর প্রাইস বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। ঠিক তার পরেরদিন গত রবিবার বড় উত্থান হয়েছিল পুঁজিবাজারে। সেই উত্থান ধারা পরের চার কার্যদিবস (সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার) অব্যাহত ছিল। ফ্লোর প্রাইস নির্ধারণ পর থেকে সব ধরনের সূচক উত্থানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুনঃ  বাজেটে তরুণদের স্বাস্থ্যঝুঁকি উপেক্ষা

মতিঝিলের সিকিউরিটিজ হাউজের কর্মকর্তারা বলেন, দীর্ঘসময় ধরে পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা শেয়ারের বাজারমূল্য, নাকি ক্রয়মূল্যে গণনা হবে সেটি নিয়ে বির্তক চলছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক চেয়েছিল বাজারমূল্যে পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা হিসাব থাকুক। তবে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) চাচ্ছিল ক্রয়মূল্যে এই বিনিয়োগসীমা হিসাব করা হোক। দীর্ঘ বিতর্কের পর নির্ধারণ হলো পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ হবে ক্রয়মূল্যে। এটা নির্ধারণ পর থেকে লেনদেন ওঠে এসেছে হাজার কোটি টাকার ওপরে।

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.

ই-পেপার
প্রথম পাতা
খবর
অর্থ-বাণিজ্য
শেয়ার বাজার
মতামত
বিশ্ব বাণিজ্য
ক্যারিয়ার
খেলার মাঠ
প্রযুক্তি বাজার
শিল্পাঞ্চল
পণ্যবাজার
সারাদেশ
শেষ পাতা