আগস্ট ১৯, ২০২২

নতুন বিনিয়োগে সুখবর

নতুন বিনিয়োগে সুখবর
  • উত্তরা ইপিজেডে সাড়ে ৮ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা

উত্তরা রপ্তানি প্রক্রিয়করণা জোনে (ইউইপিজেড) তৈরি পোশাক শিল্প স্থাপনে বাংলাদেশি কোম্পানি মেসার্স টেক্সাস ক্লথিং লিমিটেড ৮ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। ঢাকার বেপজা কমপ্লেক্সে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ জোন কর্তৃপক্ষ এবং মেসার্স টেক্সাস ক্লথিং লিমিটেডের মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। গত ২৯ জুন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর জানানো হয়।

বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল আবুল কালাম মোহাম্মদ জিয়াউর রহমানের উপস্থিতিতে বেপজা ও মেসার্স টেক্সাস ক্লথিং লিমিটেডের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বেপজার সদস্য (ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন) আলী রেজা মজিদ এবং মেসার্স টেক্সাস ক্লথিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফরহাদ হোসেন নিজ নিজ কোম্পানির পক্ষে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন।

কারখানায় ওভেন শার্ট, ডেনিম প্যান্ট,জ্যাকেট এবং ওভেন বোতামের মতো বছরে ৭ মিলিয়ন বিভিন্ন গামর্ন্টে আইটেম উৎপাদিত হবে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সদস্য (ইঞ্জিনিয়ারিং) মোহাম্মদ ফারুক আলম, নির্বাহী পরিচালক (জনসংযোগ) নাজমা বিন্তে আলমগীর এবং নির্বাহী পরিচালক (ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন) মো. তানভির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ বাড়তে থাকায়, সীমিত প্লট বরাদ্দ না দিয়ে বহুতল ভবনে প্রস্তুত ফ্লোর স্পেস বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেপজা। নতুন বিদেশি বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে দেশের চারটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) ছয় তলার আটটি কারখানা ভবন নির্মাণ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইপিজেডগুলো চট্টগ্রাম, ঈশ্বরদী, মোংলা এবং উত্তরায় অবস্থিত। কর্মকর্তারা জানিয়েছে, চট্টগ্রাম ইপিজেডে চারটি , ঈশ্বরদীতে দুটি এবং মোংলা এবং উত্তরা ইপিজেডে একটি  ছয় তলা ভবন হবে।

আরও পড়ুনঃ  বেরোবি ক্যাম্পাসের আতঙ্ক ছিনতাই

বেপজার তথ্য অনুযায়ী, এর মাধ্যমে নতুন ৩৫০ লাখ ডলার বিনিয়োগ আসবে এবং রপ্তানি আয় বাড়বে বছরে ৭০ মিলিয়ন ডলার । পাশাপাশি ১৪ হাজার বাংলাদেশি নাগরিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। চলতি জুলাইয়ে কাজ শুরু করে তিন বছরের মধ্যে প্রস্তাবিত আটটি ভবন নির্মাণের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ভবন নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৬৬ কোটি টাকা। ভবনগুলো নির্মাণের ফলে ১২৭,২৭২ বর্গ মিটার জায়গা পাওয়া যাবে, বেপজার রাজস্ব বাড়বে এর মাধ্যমে।

বর্তমানে দেশে ইপিজেডের সংখ্যা মোট আটটি। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ২০ শতাংশ আসে এই ৮টি ইপিজেড থেকে। এখানে উৎপাদনে আছে  ৪৫৭টি শিল্প প্রতিষ্ঠান। বেপজার তথ্য অনুযায়ী ১৯৮৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত ইপিজেডগুলোতে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ এসেছে। আর এতে কর্মসংস্থান হয়েছে সাড়ে ৪ লাখে বেশি কর্মীর।

বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বেপজা থেকে ইপিজেডে প্লট এবং ফ্লোর স্পেসের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ বাড়তে থাকায়, সীমিত প্লট বরাদ্দ না দিয়ে বহুতল ভবনে প্রস্তুত ফ্লোর স্পেস বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বেপজা।

বেপজার তথ্য অনুযায়ী, শুধু এশিয়ান কোম্পানিগুলো এখন দেশের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে প্রায় ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে চায়।  বেপজার কর্মকর্তারা বলেছেন,  মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় চীনা, কোরিয়ান, তাইওয়ানিজ, আমেরিকান, জাপানি এবং ইউরোপীয় উৎপাদনকারীরা বাংলাদেশে তাদের শিল্প ইউনিট স্থানান্তর করতে আগ্রহী।

আরও পড়ুনঃ  জনশুমারি ও গৃহগণনা উদ্বোধন

প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে,  চট্টগ্রামে ছয় তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ হবে চারটি।  এতে মোট ৫৪,৬৭২ বর্গমিটার স্পেস তৈরি হবে। ভাড়া দিয়ে  এসব ভবন থেকে বেপজার রাজস্ব বাড়বে প্রতিমাসে ১.৬৪ লাখ ডলার। বর্তমানে চট্টগ্রাম ইপিজেডে ১৬ টি কারখানা ভবনের পুরোটাই বিনিয়োগকারীদের কাছে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, এর মাধ্যমে বছরে প্রায় ৫৪লাখ ডলার রাজস্ব আয় হচ্ছে।

চট্টগ্রাম ইপিজেডে সর্বাধিক ১ লাখ ৬৩ হাজার কর্মী কাজ করছেন। বিদেশি বিনিয়োকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত চট্টগ্রাম ইপিজেড পরিদর্শন করছে এবং বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করছে। কিন্ত বরাদ্দ উপযোগী প্লট বা কারখানা ভবন খালি না থাকায় বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হচ্ছে। চট্টগ্রাম ইপিজেড চট্টগ্রাম বন্দর থেকে মাত্র ২.৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হওয়ায় আমদানি-রপ্তানিতে কম সময় লাগে বলে এখানে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেশি থাকে।

ঈশ্বরদী ইপিডেজের প্রতি ফ্লোরে ৩২৫০ বর্গমিটার করে একটি ভবন নির্মাণ হবে । অন্য ভবনটির  প্রতি ফ্লোর ২৩৫০ বর্গমিটার স্পেস।  বর্তমানে এই ইপিডেজে  ৬৪, ৫৭৬ বর্গমিটারের আটটি কারখানা ভবন রয়েছে। মোংলা ও উত্তরা ইপিডেজে প্রতি ফ্লোর ৩২৫০ বর্গফুটের দুটি ভবন নির্মাণ করা হবে। উত্তরা ইপিডেজে ৭ টি ভবনের ৭১,৩০০ বর্গমিটারের স্পেস বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। আর উত্তরা ইপিজেডে ভাড়া দেওয়া হয়েছে ৫৮,৫৮৯ বর্গমিটার।

দেশের ইপিডেজগুলোতে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন ব্রান্ডের বৈচিত্র্যময় পণ্যে। এর মধ্যে আছে ফেস মাস্ক, সার্জিকাল গ্লোভস, জুতার কভার, মেডিকেল গাউন, স্যানিটারি ন্যাপকিন, ডায়াপার, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ,খেলানা, বিবাহের পোশাক, সাইকেল, ইলেকট্রিক বাইসাইকেল, টুথব্রাশ, চুরুট, প্যান্ট ও জ্যাকেট, মোবাইল যন্ত্রাংশ, অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ, গল্ফ শ্যাফট, অপটিক্যাল ফাইবার কেবল, আসবাবপত্র, পাটজাত পণ্য, প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য ইত্যাদি।

আরও পড়ুনঃ  চট্টগ্রামে ময়লার ভাগাড়ে প্রায় ২০ পশুর চামড়া

ইপিজেডে ইলেট্রনিকস ও অন্যান্য বৈচিত্রমায় পণ্য উৎপাদন করছে ৩৭ শতাংশ প্রতিষ্ঠান (১৭১ টি প্রতিষ্ঠান), ওভেন গার্মেন্টস ৩০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান (১৩৮ টি), নিট গার্মেন্টস ৬ শতাংশ (২৪ টি), টেক্সটাইল ৭ শতাংশ (৩৪ টি), এক্সেসরিজ ২০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান(৩৪ টি)।

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.

ই-পেপার
প্রথম পাতা
খবর
অর্থ-বাণিজ্য
শেয়ার বাজার
মতামত
বিশ্ব বাণিজ্য
ক্যারিয়ার
খেলার মাঠ
প্রযুক্তি বাজার
শিল্পাঞ্চল
পণ্যবাজার
সারাদেশ
শেষ পাতা