ধর্মপাশায় কাল বৈশাখী ঝড়ে ও শীলাবৃষ্টিতে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি

ধর্মপাশায় কাল বৈশাখী ঝড়ে ও শীলাবৃষ্টিতে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি
ধর্মপাশায় কাল বৈশাখী ঝড়ে ও শীলাবৃষ্টিতে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি

সুনামগঞ্জরে ধর্মপাশায় কাল বৈশাখী ঝড়ে ও শীলাবৃষ্টির আঘাতে ৫টি ইউনিয়নের প্রায় ২ হেক্টর জমির পাকা ও আধা পাকা বোরো ধানরে ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে বলে জানা যায়।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টার দিকে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে ও শীলাবৃষ্টিতে হাওরাঞ্চল ধর্মপাশা উপজেলা সদর ইউনিয়ন, সেলজরষ ইউনিয়ন, পাইকুরাটি, সুখাইর-রাজাপুর উত্তর ও মধ্যনগর ইউনিয়নের কয়েক হাজার কৃষকের একমাত্র সম্বল বোরো ফসল হারিয়ে দিশে হারা। ফসলহানীর ঘটনায় এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক ও কৃষানীদের কান্না ও আহাজারতি হাওর এলাকার বাতাসভারী হয় উঠেছে। বইছে প্রার্থনা আর আকুল আবেদন।

উপজলোর সেলবরষ ইউনিয়নের খলাপাড়া গ্রামরে কৃষক ইবাদুল ইসলাম কান্না জড়তি কণ্ঠে বলেন, বাড়ীর পাশে কেউডির হাওরে, থাকা আমার প্রায় ১০ একর জমিতে এবার আম দেড় লাখ টাকা ধার-দেনা করে বোরো আবাদ করেছিলাম। আমার সব জমির ধান পাকতে শুরু করেছিল।

আগামী ৩ দিনের মাঝে আমার জমির পাকা ধান কাটার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে কাল বৈশাখী ঝড়ে ও শীলাবৃষ্টিতে আমার সব শেষ হয়ে গেছে। এখন আমি কি করব, পোলাপান নিয়া কি খাব ভেবে পাচ্ছি না।

উপজলোর সুখাইড়-রাজাপুর দক্ষিণ ইউনয়িনরে গুলুয়া গ্রামের কৃষক ইদ্রিস (৬০) বলেন, ধারাম হাওর আমার প্রায় ৪৫ একর জমিতে সাড়ে ৪ লাখ টাকা খরচ হয়েছে, বোরো আবাদ করছি। শীলাবৃষ্টিতে আমার সব ধংস হয়ে গেছে, কান্না কাটি করে বলেন, আমার বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে কি ভাবে ১ বছর পার করব, কি নিয়ে মহাজনের ঋণ পরিশোধ করব এই কথা বলেন তিনি। তার সঙ্গে সঙ্গে এলাকার শত-শত কৃষক, কৃষানী আর্তনাথ করেন।

উপজলোর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক শাহ আব্দুল বারেক ছোটন বলেন, কাল বৈশাখী ঝড়ে উপজেলার ৫ টি ইউনিয়নের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখবর পেয়ে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন মহোদয়ের নির্দেশে আমরা বিভিন্ন হাওর পরিদর্শন করি। এ সকল তথ্য মাননীয় সাংসদ মহোদয়কে জানানো হয়েছে। ছোটন আরও বলেন, যে কোন সমস্যায় আমরা মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছি ধর্মপাশায় স্বেচ্ছাসেবকলীগ।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো, নাজমুল ইসলাম শনিবার বিকেলে জানান, এবার চলতি বোরো মৌসুমে এ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ৮টি হাওরে মোট ৩১ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবার বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছিল।

তিনি আরো বলেন, গত ৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় বয়ে যাওয়া এক আকস্মিক গরম ঝড়ো হাওয়ায় আশপাশের বিভিন্ন উপজেলায় বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হলেও আমাদের এখানে তেমন ক্ষতি হয়নি। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে১২টার দিকে এ উপজেলায় ৫টি ইউনিয়নের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কাল বৈশাখী ঝড়ে ও শীলাবৃষ্টিতে ওই সব এলাকার কৃষকের প্রায় ১হাজার ৬ শত হেক্টর জমির পাকা ও আধা পাকা বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হয়েছে।

আনন্দবাজার/শাহী/সাইফ

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *